সব সময় বাংলাদেশ থেকে জাতীয় মাছ ইলিশ প্রতিবেশী দেশ ভারতে গেলেও এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। দেশের বাজারে ইলিশের জোগান কমে যাওয়ায় এবার প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। গত দুই মাসে ভারতের গুজরাট ও কলকাতার হাওড়া পাইকারি বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
এই খবর দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী আনন্দবাজার পত্রিকা। খবরে বলা হয়, প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ‘উপহার’ হিসেবে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এ বছর ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে মাছ আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি করা ইলিশের একটি অংশ দেশে বিক্রির পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে।
আনন্দবাজার পত্রিকা হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বরাতে জানায়, বাংলাদেশে নিজস্ব ইলিশের তীব্র ঘাটতি মেটাতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশেষ করে গুজরাটের ভারুচ বন্দর থেকে সংগৃহীত ডিম ভর্তি ইলিশের চাহিদা চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বেশি। আমদানিকৃত এই ইলিশ প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বিদেশে রপ্তানি, স্থানীয় বাজারে নোনা ইলিশ হিসেবে বিক্রি এবং ইলিশের ডিম আলাদাভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এক নম্বর। সারা বিশ্বে মোট উৎপাদনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ইলিশই বাংলাদেশে উৎপাদন হয়। আর বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির প্রধান গন্তব্য যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত পরিসরে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হতো। গত বছর পূজার আগেভাগে বাংলাদেশ ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। তবে রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১৪৪ টন।
বাংলাদেশে ক্ষমতার রদবদল ও সার্বিক উৎপাদন হ্রাসের কারণে এবারের পূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির সম্ভাবনা অনিশ্চিত। পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়ীরা ইলিশ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য বিভাগে আবেদন জানালেও ইলিশ পাওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।