মঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় যে পরিকল্পনা সরকারের


সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি নানা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত বাড়ানোর উপায় খুঁজতে নীতিনির্ধারকদের ধারাবাহিক বৈঠক ও পর্যালোচনা চলছে। বিশেষ করে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই পর্যবেক্ষণ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধানে ঘাটতি, আমদানিনির্ভরতা, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হয়ে পড়াও সংকটকে তীব্র করেছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি কূপ খনন এবং তিনটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হবে। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২৩০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও তা বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়লার উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংসদে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অবগত। তবে বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের ভুলনীতি ও অনিয়মের ফল বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের নেওয়া ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের পাশাপাশি আমদানির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও অন্তত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্র ও স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, প্রাথমিক জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ বাড়াতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্থানীয় উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যার সময়সীমা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণে আরও একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে স্বাভাবিক সময়ে ১০০ কোটির বেশি ঘনফুট গ্যাস আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হয়। অন্যদিকে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন, যার ৮০ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

কয়লাও বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বছরে প্রায় দেড় কোটি টন কয়লা প্রয়োজন, যার প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়।

বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাটারিসহ সোলার প্যানেল স্থাপন করে উদ্যোক্তারা প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকা দরে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে পারবেন। সরকারের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া পায়রা, মাতারবাড়ী ও বড়পুকুরিয়ায় কয়লাভিত্তিক তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি সময়ে লোডশেডিং কমাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে অতীতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে সরকারকে বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এদিকে গত কয়েক মাসে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি আমদানি ও ব্যয়ে।

সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে তেল কিনে দেশে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করায় সরকারের লোকসান ইতোমধ্যে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে বেশি দামে এলএনজি কিনে কম দামে সরবরাহ করায় এ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১৭৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছরে আরও চার থেকে পাঁচটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট এবং মাতারবাড়ীতে একটি স্থলভিত্তিক টার্মিনালের মাধ্যমে আরও ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তেলের মজুত সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩২ দিনের তেলের মজুত রয়েছে, যা ধীরে ধীরে ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তিও হয়েছে।

অন্যদিকে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিপিসিকে প্রতি মাসে ৯০ হাজার টনের বেশি এলপিজি আমদানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহেশখালী, কাট্টলী, মাতারবাড়ী, মোংলা ও অ্যালেঙ্গায় এলপিজি ডিপো স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

গরমের তীব্রতায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাস সংকটে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৮৭ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে লোডশেডিংয়ের চাপ বাড়ছে।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত সংকট সামাল দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে একটি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});