বড় বাজেটের এই জীবনীভিত্তিক সিনেমাটি একাধিক ভারতীয় ভাষায় নির্মিত হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তামিল, তেলেগু, কন্নড় ও মালায়ালম— এই চারটি প্রধান ভাষায় সিনেমাটি নির্মাণ ও মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বুধবার চেন্নাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মিউজিক একাডেমিতে এমএস সুব্বুলক্ষ্মীর ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিনেমাটির মহরৎ ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রথম দৃশ্যের সূচনা করেন তামিল সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান। এ সময় এমএস সুব্বুলক্ষ্মীর পরিবারের সদস্য, খ্যাতিমান শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের প্রযোজক ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণী নির্মাতা গৌতম তিন্নানুরি প্রায় এক বছর গবেষণা করে সিনেমাটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন। প্রযোজক আল্লু অরবিন্দ, রকলাইন ভেঙ্কটেশ ও বানি ভাসে যৌথভাবে সিনেমাটি প্রযোজনা করবেন।
সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন জনপ্রিয় সুরকার অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। অনুষ্ঠানে পরিচালক গৌতম তিন্নানুরি বলেন, এখন সামাজিক মাধ্যমে অনুসারী ও পছন্দের সংখ্যা বাড়িয়ে খুব দ্রুত তারকা হওয়া সম্ভব। কিন্তু এমএস সুব্বুলক্ষ্মী সারাজীবন সাধনা, ধৈর্য ও ত্যাগের মাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। তার গানের পাশাপাশি সেই মানুষটির জীবনও পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চান তিনি।
এদিকে কিংবদন্তি এ শিল্পীর চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত রাশমিকা মান্দানা। তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে— আমি এক ঐশ্বরিক সান্নিধ্যে দাঁড়িয়ে আছি। আম্মার ঐতিহাসিক জীবনের একটি ছোট অংশ হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
তিনি বলেন, আম্মা নিজেই হয়তো আমাকে এই কাজের জন্য বেছে নিয়েছেন। আমি কথা দিচ্ছি— এই চরিত্রের প্রতি শতভাগ নিষ্ঠা ও সততা রেখে নিজের সেরাটা দেব। মহরত অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা কমল হাসান। এমএস সুব্বুলক্ষ্মীর সংগীত কীভাবে পুরো ভারতকে এক সুতায় বেঁধেছিল, তা উল্লেখ করে তিনি রাশমিকার এই চরিত্রে অভিনয় নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান।
রসিকতা করে কমল হাসান বলেন, আজকের দিনে রাশমিকা এ চরিত্রটি পাওয়ায় আমার এতটুকু হিংসা হচ্ছে না। কারণ আমি যদি নিজের দাড়িও কামিয়ে ফেলতাম, তাহলেও এমএস আম্মার চরিত্রের সঙ্গে সুবিচার করতে পারতাম না।