কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেললাইনের জয়েন্টের নাটবল্টু খুলে চুরির সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছেন আশিক মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার হেফাজত থেকে রেললাইনের জয়েন্টের ১৪টি নাট উদ্ধার করে উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভৈরব রেলওয়ে থানাধীন ২৬ নম্বর মেঘনা ব্রিজের কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মামলার পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আশিক মিয়া নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার কার্ডরা গ্রামের মৃত আব্দুল কাশেম মিয়ার ছেলে। তিনি রেললাইনের জয়েন্টের নাট খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের নজরে পড়েন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ২৬ নম্বর মেঘনা ব্রিজের কাছে পৌঁছে আপ লাইনের এপ্রোন লাইনের ওপর থেকে আশিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার হেফাজতে থাকা রেললাইনের জয়েন্টে ব্যবহৃত ১৪টি নাট উদ্ধার করা হয়।
ওসি জানান, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি নাটের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চি এবং ওজন ৯ দশমিক ১ কেজি। প্রতিটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০০ টাকা হিসেবে ১৪টির মোট মূল্য প্রায় ৮ হাজার ৪০০ টাকা।
এ ঘটনায় আশিক মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।
রেললাইনের জয়েন্টের নাট খুলে ফেলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে ওসি রফিকুল হাসান বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে রেলপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সামান্য অর্থের জন্য কেউ যেন রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি বা নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ এবং রেললাইনের জয়েন্টের নাট খুলে ফেলার মতো ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।