খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত মো. মামুন মীর (৩৫) দীর্ঘ ৩৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মামুন মীর রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার নেয়ামত মীরের বড় ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি এলাকার একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের আবু সালেহীন প্রতিবন্ধী স্কুলের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন মামুন। এ সময় তার মাথা ও চোখে গুলি লাগে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রূপসা এলাকায় মসজিদ এ আকাসা জানাজা শেষে মামুনের লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে পুলিশ তাতে বাঁধা দেয়। পরে পুলিশের একটি দল লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বলেন, গত ১৮ আগস্ট রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মামুন গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ২১ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর তার মৃত্যু হয়।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত না করে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের চেষ্টা করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। কে বা কারা তাকে গুলি করেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ওসি জাহিদ জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা কোনো অভিযোগ করতে চাচ্ছেন না। তবে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।