গাজার উত্তরাঞ্চলে একটি সামরিক ঘাঁটির ভেতরে ড্রোন বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য জানিয়েছে।
আইডিএফের ১৬তম ব্রিগেডের সদস্য নিহত দুই সেনা হলেন ২৪ বছর বয়সী মেজর (রিজার্ভ) নাদাভ কালি এবং ২৩ বছর বয়সী মেজর (রিজার্ভ) অফেক মোয়ালেম। কালি হার হালুতজ এলাকার এবং মোয়ালেম জেরুজালেমের বাসিন্দা ছিলেন।
আইডিএফের ৯৯তম ডিভিশনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলাদ তজুরি জানান, আহত অবস্থায় দুজনকে আশকেলনের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তজুরির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সেনা একটি ড্রোন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। প্রথম অভিযান সফলভাবে শেষ করার পর তারা দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় ড্রোনটি উত্তর গাজার সামরিক ঘাঁটির ভেতরে বিধ্বস্ত হয়।
ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেটি পরীক্ষা করতে দুই সেনা ঘটনাস্থলের কাছে যান। তখন ড্রোনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তারা গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। ঘটনায় অন্য কোনো সেনা আহত হননি বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তজুরি নিহত দুই সেনাকে ‘চমৎকার সৈনিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের একজন সার্জেন্ট এবং অন্যজন স্কোয়াড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬তম ব্রিগেড উত্তর গাজার ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।
ড্রোনটি কীভাবে বিস্ফোরিত হয়েছে এবং এর পেছনে হামাসের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইডিএফ। ড্রোনটি ইলেকট্রনিক তরঙ্গ বা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম ব্যবহারের মাধ্যমে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তবে আইডিএফের প্রাথমিক ধারণা, এ ধরনের কৌশল পরিচালনার মতো কার্যকর সক্ষমতা হামাসের নেই। একই সঙ্গে ড্রোনটির কাছে যাওয়ার পর ঠিক কী কারণে বিস্ফোরকটি বিস্ফোরিত হয়েছে, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
ড্রোনটি আত্মঘাতী ছিল, নাকি বিস্ফোরক বহন করে তা নির্দিষ্ট স্থানে নিক্ষেপের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল, সে বিষয়ে আইডিএফ বিস্তারিত জানায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা ও বিস্ফোরক নিক্ষেপে ব্যবহৃত ড্রোনের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট