শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর আগে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।
নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্তের কাজ শুরু করবেন তিনি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজনের স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। ওই দিন তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতীমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য অপ্রতীমকে মাথায় বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় ওই তিনজন।
ওই দিন সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের আদেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।