৪৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী এখনো অবিবাহিত এবং নিজের মতো করেই সিঙ্গেল জীবন কাটাচ্ছেন। তার স্পষ্ট কথা, এই বয়সে এসে বিয়ের তাগিদ অনুভব করেন না এবং সামাজিক চাপে পড়েও বিয়ের পক্ষে নন তিনি। তবে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক আগেই নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা এগ ফ্রিজ করিয়ে রেখেছেন রাইমা। তার মতে, মা হওয়ার জন্য বিয়ে করাটা কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়।
কেরালার শুটিং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, কেরালা ভীষণ সুন্দর। সিনেমাটিতে তার চরিত্রটি বড় নয় এবং শুটিংয়ের দিনও কম ছিল। ফলে এদিক ওদিক ঘোরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। প্রচুর দক্ষিণ ভারতীয় খাবার খেয়েছেন এবং মজা করেছেন। তবে দলের অন্যরা সেই সুযোগ পাননি।
গোয়েন্দা-কেন্দ্রিক এই ছবিতে চরিত্র ছোট হওয়া সত্ত্বেও কেন রাজি হলেন? এ প্রসঙ্গে রাইমা জানান, একেন ফ্র্যাঞ্চাইজির কথা তিনি অনেক শুনেছেন। অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী অবশ্যই এর একটি কারণ। পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এর আগে কাজ করা হয়নি। তাই তার সঙ্গে কাজের ইচ্ছে ছিল। এই ছবিতে তার চরিত্রটি দক্ষিণ ভারতীয় একজন মহিলার এবং তার লুকও একদম আলাদা। এমনভাবে দর্শক আগে তাকে দেখেননি।
পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে তিনি বলেন, একেনের শুটিংয়ের শুরুতে তার কিছুটা চিন্তা ছিল। পরে দেখা গেল সব কাজ খুব মসৃণভাবেই হয়েছে। এত দ্রুত কাজ শেষ হয়েছে যে টেরই পাওয়া যায়নি। এর সব কৃতিত্ব জয়দীপদার। তিনি ঠিক কী চান, তা তিনি ভালো করেই জানেন। ভালো পরিচালক হতে গেলে এই বিষয়টি জানা খুব জরুরি।
দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, অনেক বছর আগে তামিল, তেলুগু ও মালয়ালম এই তিনটি ভাষাতেই তিনি কাজ করেছেন। তবে তাদের ভাষা রপ্ত করা বেশ কঠিন। যদিও একেনে তাকে খুব বেশি মালয়ালি বলতে হয়নি।
টম ক্রুজকে পেলেন না বলেই কি সারাজীবন একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাইমা বলেন, তার বোনও এই বিষয় নিয়ে মজা করে। কলকাতায় তেমন কেউ নেই এবং তিনি শহরের বাইরে খুব একটা যান না। সত্যি বলতে এই বয়সে এসে বিয়ে করার তাগিদ তিনি অনুভব করেন না।
মা হওয়া প্রসঙ্গে রাইমা বলেন, তিনি বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসেন। তবে সবটা ঠিকমতো সামলাতে পারবেন কি না, সেই ভয়ে আগে কখনো ভেবে দেখেননি। মনের কথা তো আগে থেকে বলা যায় না। আজ হয়তো মা হতে ইচ্ছে করছে না, কিন্তু কালই সেই ইচ্ছে জাগতে পারে। এসব দিক বিবেচনা করেই তিনি অনেক আগেই নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা এগ ফ্রিজ করিয়ে রেখেছেন। তবে তার কাছে একটি বিষয় একদম পরিষ্কার, আর তা হলো শুধু মা হওয়ার জন্য বিয়ের কোনো প্রয়োজন নেই।