ছবিগুলোর সঙ্গে মেসি লিখেছেন আবেগঘন একটি বার্তা—‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমি জানি মিস করব।’
এজেইজা প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্সে জাতীয় দলের হয়ে শেষ অনুশীলন করেছেন মেসি। তার নামেই নামকরণ করা এই কমপ্লেক্সে অনুশীলনের সময় তাকে বেশ হাসিখুশি ও স্বচ্ছন্দ দেখা গেছে। সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডা ও সময় কাটিয়েছেন তিনি। বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে তার জাতীয় দলের অধ্যায়।
রোববার জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরেছেন মেসি। এর আগে বলিভিয়া ও বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের ম্যাচে তিনি ছিলেন না। সোমবার কোচ লিওনেল স্কালোনির অনুশীলনে তাকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা যায়। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ রদ্রিগো দি পলের সঙ্গেও সময় কাটান তিনি।
জাতীয় দলে মেসির পথচলা ছিল দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একের পর এক হতাশার মুখোমুখি হলেও পরবর্তী সময়ে বদলে যায় গল্প। আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জেতানোর পর কাতার বিশ্বকাপেও দেশকে শিরোপা এনে দেন তিনি। এছাড়া দুবার কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছেন মেসি। এসব অর্জনের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের জায়গা আরও পোক্ত করেছেন তিনি।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই মেসির জন্য হতে যাচ্ছে বিশেষ এক বিদায়ী আয়োজন। মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম সমর্থকে পূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপস্থিত থাকতে পারেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য। পাশাপাশি থাকবেন বিশেষ অতিথি ও শিল্পীরাও।
মেসির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দিও। রিভার প্লেটে খেলা এই ডিফেন্ডারও বিদায়ী আয়োজনে থাকবেন বলে জানা গেছে। ম্যাচের জন্য দলে ফিরেছেন রদ্রিগো দি পল ও জোভানি লো সেলসো।
শেষ অনুশীলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক দুই আর্জেন্টাইন তারকা এজেকিয়েল ‘পোচো’ লাভেজ্জি ও ক্রিশ্চিয়ান ‘কিলি’ গনসালেস। তাদের উপস্থিতিও মেসির বিদায়ী মুহূর্তকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
এদিকে বেনিনের বিপক্ষে একাদশ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি কোচ স্কালোনি। গনজালো মন্তিয়েল ও নাহুয়েল মলিনা না থাকায় ডান দিকের রক্ষণে আগুস্তিন জিয়াই কিংবা জুলিয়ানো সিমেওনে খেলতে পারেন। প্রয়োজনে তিন ডিফেন্ডার নিয়েও মাঠে নামতে পারে আর্জেন্টিনা। এতে বিশ্বকাপজয়ী দলের আরও কয়েকজনকে একাদশে রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
সম্ভাব্য একাদশে থাকতে পারেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, নিকোলাস তালিয়াফিকো, লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ।
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। এটি মেসির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি। দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা, সাফল্য আর ইতিহাস গড়ার অসংখ্য মুহূর্ত পেরিয়ে মেসি এখন জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছেন।
নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার আগে মেসির নিজের কথাতেই যেন সেই বিদায়ের আবেগ ধরা পড়েছে—‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমি জানি মিস করব।’