মঙ্গলবার , ৬ অক্টোবর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

সিলেট বিভাগজুড়ে অদৃশ্য আতঙ্ক!


অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১০:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেট বিভাগজুড়ে এখন এক অদৃশ্য আতঙ্কের ছায়া। একের পর এক নিখোঁজের ঘটনায় অভিভাবকমহলে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। চলতি বছরের শুরু থেকেই সিলেট বিভাগে এমন ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটে যাচ্ছে। এর মধ্যে কেবল ৩ মাসের পরিসংখ্যান অনুসন্ধানেই কপালে আতঙ্কের ছাপ। চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসেই সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ৪৭ জন। এই তথ্য কেবল গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের। কিন্তু তলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়, এটি নিছক গণমাধ্যমে উঠে আসা একটি ন্যূনতম প্রতিচ্ছবি; প্রকৃত ঘটনা আর লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা হিসাব মেলালে নিখোঁজের এই সংখ্যা অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিন মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই নিখোঁজের ঘটনা সর্বোচ্চ। জুলাই মাসে যেখানে নিখোঁজ হয়েছিলেন অন্তত ১১ জন, আগস্টে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৫ জনে। আর সেপ্টেম্বরে এসে সেই সংখ্যা এক লাফে পৌঁছায় ২১ জনে। তিন মাসে নিখোঁজ হওয়া ৪৭ জনের মধ্যে শিশু-কিশোর অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সীদের সংখ্যাই অন্তত ২৭ জন। এর মাঝে আলাদাভাবে নজর কাড়ছে মাদরাসাশিক্ষার্থীরা; যাদের অন্তত ১৩ জনের গুমরে কাঁদার খবর এসেছে পত্রিকার শিরোনামে।

নিখোঁজের পর কয়েকটি ক্ষেত্রে লাশ উদ্ধারের মর্মান্তিক পরিণতির তথ্যও পাওয়া গেছে। যেমন টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট থেকে নিখোঁজ শিশু রুকাইয়া কিংবা কমলগঞ্জের নদীতে নিখোঁজ মাসুক মিয়া। আবার কোনো কোনো ঘটনায় দেখা মিলেছে মুক্তিপণ দাবির নাটকীয়তা। সিলেটের জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদরাসার দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের পর লাখ টাকা মুক্তিপণের সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে গৃহত্যাগ করেছিল। ঘটনার আড়াল ও জনপদের নীরব আতঙ্ক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা সংবাদমাধ্যমের খবরের বাইরেও এমন বিপুলসংখ্যক ঘটনা অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে।

সমাজবিজ্ঞানী ও অভিজ্ঞ মহলের মতে, লোকলজ্জা, পারিবারিক জটিলতা কিংবা পুলিশি ঝামেলা এড়ানোর ভয়ে অনেক পরিবার থানায় পর্যন্ত অভিযোগ জানান না। আবার থানায় ডায়েরি হলেও তা সর্বসমক্ষে বা গণমাধ্যম কর্মীদের হাত পর্যন্ত পৌঁছায় না। অনেক সময় স্বজনেরা উদ্ধার হলেও নিরাপত্তা কিংবা সামাজিক সুনামের ভয়ে সে খবর আর প্রকাশ করা হয় না। এর বাইরে চাকরি পরীক্ষা দিতে গিয়ে জকিগঞ্জের মাহবুব সরোয়ার রাজন কিংবা ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিনের মতো প্রাপ্তবয়স্কদের রহস্যজনক উধাও হয়ে যাওয়ার সংবাদ রয়েছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

শিশু নিখোঁজ ও পলায়ন নিয়ে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া একটি জাতীয় পরিসংখ্যান এক নতুন মাত্রার ইঙ্গিত দেয়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় রেকর্ড ১৫,৭১৭টি জিডি হয়েছে। যার মধ্যে ১৩,৬৭৯ জনকে পরিবারে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও ২,০৩৮টি শিশু-কিশোর এখনও অধরা। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, অনলাইন জিডি ব্যবস্থার কারণে বর্তমানে সহজেই অভিযোগ দায়ের সম্ভব হচ্ছে, যা জিডির সংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে। ২০২৩ সালে নিখোঁজ-সংক্রান্ত জিডি ছিল ১৭,৮০৮টি, ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৬,৪১৪টিতে এবং ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল ২২,৫৫০টিতে।

স্কুল-মাদরাসায় যাওয়ার পর সন্তানের ঘরে না ফেরা কিংবা ঘর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া—প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যে থাকে একেকটি পরিবারের দুর্বিষহ যাতনা। অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই তীব্র উদ্বেগ কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তল্লাশি দিয়ে প্রশমিত করা সম্ভব নয়। সামাজিক সচেতনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারি বৃদ্ধি এবং শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার বিষয়টিও এখন খুবই প্রাসঙ্গিক। প্রতিটি ঘণ্টার দীর্ঘশ্বাস থামাতে চাইলে নিখোঁজের মূল কারণ অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এক্ষেত্রে অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়টিতে জোর দিচ্ছেন বিদগ্ধজনেরা। আবার নিখোঁজ ঘটনার কারণ নির্ণয়পূর্ব যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী চারটি জেলার কিছু নিখোঁজ তথ্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হচ্ছে। নিখোঁজে বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সিলেট জেলা। যেমন: ফাবিহাতুন নেছা ফাইজা (১৬) (দক্ষিণ সুরমা) স্কুলপড়ুয়া, আজান আহমদ (৩) (দক্ষিণ সুরমা) শিশু, জরিনা বেগম (৬০+) সিলেট সদর, কলেজছাত্রী সুমিনা বেগম (১৯) (ওসমানীনগর), এসএসসি পরীক্ষার্থী বিপাশা দে (সিলেট মহানগর), বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ জেলিন (সিলেট সদর), ট্যাক্সিচালক মিজানুর রহমান (৩২) (দক্ষিণ সুরমা), কর্মজীবী শাকিল আহমদ রাসেল (২৫) (দক্ষিণ সুরমা), তামিম আহমেদ (১৫) (সিলেট শাহপরাণ), সাঈদ মাসুদ চৌধুরী নাঈম (১৫) (সিলেট শাহপরাণ), মাদরাসা ছাত্র হাসান মাহমুদ (১৩), মাদরাসা ছাত্র আরিফ মিয়া (১৩) (বিশ্বনাথ, সিলেট), মাদরাসা ছাত্র ইসতিয়াক হোসেন সম্রাট (১৫) (সিলেট মহানগর), স্কুলছাত্র আবির আহম্মেদ (১৪) (সিলেট শাহপরাণ), সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের সালমা আক্তার (২৪) ও তার মেয়ে মরিয়ম (৫। পুলিশ জানিয়েছে, এর মধ্যে অন্তত ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন: তাহিরপুরের রুকাইয়া নূর (১০), জগন্নাথপুরের মাহি আহমদ (৬) ও দরাজ মিয়া (জগন্নাথপুর)। এদের মধ্যে শিশু দুইজনের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ তালিকায় হবিগঞ্জ জেলা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। এই জেলার নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন: বানিয়াচংয়ের শিশু আশরাফুল, স্কুলছাত্রী নবীগঞ্জের লাবিবা চৌধুরী (১৫), স্কুলছাত্র মাধবপুরের সৈয়দ সাদাফ, বাহুবলের অটোরিকশাচালক তুহিন মিয়া (২৩), মাধবপুরের আব্দুল মন্নান মনু মিয়া (৭০), তৃতীয় শ্রেণির মাদরাসাছাত্রী ফাবিয়া তাবাস্সুম মীম, ১৫ বছর বয়সী রাকিবুল হাসান, ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম তাজিম। এর মধ্যে নিখোঁজ ১ জনের উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং অপর একজনের নিখোঁজের দুদিন পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলায় নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন: কমলগঞ্জের টমটমচালক প্রীতম এরিক পিতু (৩০), শিমলা আক্তার (১৬), রাজনগরের আশরাফ মিয়া (৭০), কমলগঞ্জের কৃষক মাসুক মিয়া (৪৫), কাঁঠালতলীর নারী শিক্ষার্থী সুমিনা বেগম (১৯)। এদের মধ্যে তিনজনের নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার করা হয়।

সমাজকর্মী এবং সংগঠক আবদুল করিম কিম বলেন, নিখোঁজ হওয়া ঘটনার মধ্যে তিনটি কারণ খুবই উল্লেখযোগ্য। প্রথমমত, বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রভাব। দ্বিতীয়ত,অনেক সময় শিশু কিংবা বয়স্ক লোকদের অপহরণ পদ্ধতি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্রিফিং না করা। আর তৃতীয় কারণ হচ্ছে-মাদরাসায় সাধারণত নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা ভর্তি হয়ে থাকে। ফলে তাদের মধ্যে সন্তানের খোঁজ-খবর বা তদারকির সুযোগ থাকে না। এ অবস্থায় যে কোন প্রলোভন মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, বিগত দিনেও দেখা গেছে, মাদরাসা থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা জঙ্গী কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, শিশু অপহরণের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।

এ বিষয়ে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ইসমাইল হোসেইন বলেন, "এসব ঘটনার মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এর মধ্যে আর্থিক একটি বিষয় রয়েছে। রয়েছে পারিবারিক অস্থিরতা, আবার সামাজিক কিংবা পারিপার্শ্বিক ঘটনার কারণেও এসব ঘটে থাকে।" তিনি বলেন, "এসব ঘটনায় যদি আসামির দৃষ্টান্তমূলক একটি শাস্তি নিশ্চিত করা যেত, তাহলে অনেক কমে আসত নিখোঁজের সংখ্যা।" তিনি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার প্রতি এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার জোড় দাবি জানান। একই সাথে স্কুল-মাদরাসাগুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক সিলেট জেলার নিখোঁজের পরিসংখ্যান ভুল বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা পুলিশের কাছে একটি ডেটা রয়েছে, সেটি আপনাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তবে কল কেটে দেওয়ার অন্তত ১৯ ঘন্টা অতিক্রম হলেও তিনি আর কোনও বার্তা প্রেরণ করেন নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});