পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আজমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চার ঘণ্টা বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।
এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আকলিমা আক্তারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে জানা গেছে। বিক্ষোভের কারণে চার ঘণ্টা বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক নুর আজমকে সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার বিভিন্ন সময় হেনস্তা ও হুমকি-ধমকি দিতেন। এসব বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে থাকা অবস্থায় সোমবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তারা। ওই দিন রাতেই তার দাফন সম্পন্ন হয়।
মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
প্রধান শিক্ষক নুর আজমের ভাগিনা আব্দুস সালাম মিঠু বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার প্রায়ই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। তারা বিভিন্নভাবে তার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করতেন। তাদের কারণে প্রধান শিক্ষক মানসিক চাপে ছিলেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৪০ দিন আগে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একটি বিষয় নিয়ে তার তর্ক-বিতর্ক ও কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে বিষয়টি ভুলে তারা স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছিলেন। এখন প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কিছু লোকজন ভুল ধারণা থেকে এসব করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশীষ কুমার শীল বলেন, প্রধান শিক্ষক নুর আজমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সকালে বিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের দাবিগুলো শুনে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।
ইউএনও ফাহমিদা সুলতানা বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগের মুখে থাকা দুই শিক্ষককে নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তারা বিদ্যালয়ে আসবেন কি না এবং তাদের পাঠদানের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে।