আমের মৌসুম শেষ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। কিন্তু বিক্রি এখনো শেষ হয় নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ফলের বাজারে তাকালেই চোখে পড়ছে অসময়ের আম। বাজারে উঠা এসব অসময়ে আম দেখে অনেকেই মনে করছেন যেন ভরা মৌসুম চলছে । বাজারে উঠা এসব আমের মধ্যে কাটিমনও বারি ১১ জাতের রয়েছে । প্রতি কেজি আম ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অসময়ে আম দেখে অনেক লোকজন ক্রয় করছেন।
এদিকে পৌর শহরের সড়ক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ফলের দোকানে নানা জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফল দোকানের সামনে ঝুড়ি ও কার্টনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এসব আম। পথচারী ও ক্রেতাদের অনেকেই কৌতূহল নিয়ে আম দেখছেন এবং কেউ কেউ কিনেও নিচ্ছেন। এরমধ্যে কেউ পরিবারের জন্য, কেউ অতিথি আপ্যায়নে আবার কেউবা শখ করে কিনছেন অসময়ের এসব আম। সাধারণত গ্রীষ্মকালেই আমের প্রধান মৌসুম। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে গাছভর্তি আম, বাজারজুড়ে আমের গন্ধ আর ক্রেতাদের ভিড়ের দৃশ্য সবারই পরিচিত। কিন্তু মৌসুম শেষ হওয়ার পরও বাজারে আমের এমন উপস্থিতি অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি করেছে। স্থানীয় একাধিক ফল বিক্রেতা জানান, অনেক দিন হলো আমের মৌসুম শেষ হয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বানিজ্যিকভাবে উচ্চ ফলনশীল জাতের আম চাষ হওয়ায় ওইসব এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সংরক্ষণ ও পরিবহনের আধুনিক ব্যবস্থার কারণে মৌসুমের বাইরেও তা যেন সম্ভব হচ্ছে। তবে অসময়ের আমের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাকেই হিসাব করে ক্রয় করছেন। সড়কবাজার এলাকার ফল বিক্রেতা রাজন বলেন, এখন আমের মৌসুম না হলেও অসময়ের আমের ভালো চাহিদা রয়েছে। অসময়ে বাজারে আম থাকায় অনেকেই ক্রয় করছেন। এবারই প্রথম আমরা অসময়ে আম বিক্রি করছি। ক্রেতা মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় কাজ করতে বাজারে ছেলেকে নিয়ে এসেছি। হঠাৎ ছেলে পাকা আম দেখে কেনার কথা বলে। ছেলের ইচ্ছে হওয়ায় ২ কেজি কাটিমন জাতের আম কেনা হয়। আম পেয়ে ছেলে খুবই খুশি। মো: মুর্শেদ আলম বলেন এখন আমের মৌসুম নয়। তারপরও বাজারে এত আম দেখে অবাক লাগছে। দেখতে ভালো হওয়ায় পরিবারের জন্য কেনা হয়েছে। ফলের দোকানে আম দেখে মনে হচ্ছে যেন মৌসুম এসেছে। স্থানীয়দের মতে, একসময় মৌসুমি ফলের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা করতে হতো। এখন পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারব্যবস্থার পরিবর্তনে অনেক ফলই প্রায় সারা বছরই চোখে পড়ে। আমের মৌসুম শেষ হলেও বাজারে আমের উপস্থিতি মানুষের কাছে আর তেমন অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তবে ভোক্তাদের কেউ কেউ অসময়ের আমের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, আম দেখতে আকর্ষণীয় হলেই হবে না, নিরাপদ ও মানসম্মত হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে বিক্রি হওয়া ফল নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাসুদ রানা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দেশের বিভিন্ন জায়গাতে বানিজ্যিকভাবে আমের চাষ হওয়ায় মৌসুম ছাড়াই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে মৌসুমের সময়ের তুলনায় এসব আমের স্বাদ ও গুণগত মানে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। অতিরিক্ত উজ্জ্বল রং, অস্বাভাবিক গন্ধ বা স্বাদে ভিন্নতা থাকলে সেটি না কেনাই নিরাপদ। তিনি বলেন প্রাকৃতিকভাবে আমের মৌসুম শেষ হয়েছে। তবে মৌসুমের বাইরে বাজারে যেসব আম পাওয়া যাচ্ছে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে কিনতে হবে।