কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে এক নারীকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে থাকা এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেথৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ইলমা (৭)। সে বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার জামাল মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর নাম প্রিয়া (২৫) বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তিনি তাঁর বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় বলে দাবি করেছেন। তবে তাঁর পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ৬৩ নম্বর বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম ধরে ডাকাডাকি ও কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ইলমা নামের এক শিক্ষার্থীকে ফুসলিয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান। বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থীর নজরে পড়লে তারা ওই নারীর পিছু নেয়। পরে তারা দেখতে পায়, ইলমাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দপ্তরি শহিদুল্লাহকে জানায়। খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও খোঁজ শুরু করেন। পরে শিশুটির বাবা বিদ্যালয় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় গিয়ে অটোরিকশাটির সন্ধান পান।
এ সময় স্থানীয় লোকজন ওই নারীর পরিচয় ও শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। পরে উত্তেজিত জনতা ওই নারীকে মারধর করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসে এবং সেখানে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থী ইলমা জানায়, ওই নারী তাকে তার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। এ সময় তিনি ইলমাকে কানের দুল খুলে দিতে বলেন।
বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কিশো আর সুলতানা বলেন, ‘দুপুরে নিচের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরছিল এবং পরের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছিল। বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভা ও শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তার আসার বিষয় নিয়ে আমরা দাপ্তরিক আলোচনায় ছিলাম। পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারি, এক নারী এসে এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর আমরা দ্রুত খোঁজ শুরু করি।’
পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত নারী প্রিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, তবে স্কুল থেকে শিশুকে কেনো নিয়ে আসা হয়েছে এই প্রশ্নে নীরব থাকেন।
কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে থানায় নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা ফের মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়ির একটি গ্লাসও ভেঙে গেছে।’ উর্ধতন কর্মকর্তার পরামর্শে পরবর্তী প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।