উৎপাদন ও শিল্প খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা কমাতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ ১৫টি দেশ। একই সঙ্গে বাজারকে বিকৃত করে এবং অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়ায়—এমন বাজারবহির্ভূত নীতি ও চর্চা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর ১৫ দেশের সই করা যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বিবৃতিটি প্রকাশ করে। ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকের পর বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই।
বিবৃতিতে সই করা দেশগুলো হলো—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, পোল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশকে নিজেদের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজার বিকৃত করে এবং অতিরিক্ত সক্ষমতার সমস্যা আরও বাড়ায়—এমন নীতি ও চর্চা বন্ধ করতে হবে।
দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও বেশি দেশ নিজেদের শিল্প, শ্রমিক ও অর্থনীতিকে সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে পারে। তবে তথ্য ভাগাভাগি, সহযোগিতা ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব।
জি-২০ বাণিজ্যমন্ত্রীরা বিভিন্ন উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতিত্বে জি-২০-এর আলোচনায় বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতা এখন বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিভিন্ন দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকেই জি-২০ এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আসছে। সে সময় কয়েকটি শিল্পে অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং এর ফলে বাণিজ্য ও শ্রমিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
দেশগুলো বলেছে, সরকারি ভর্তুকি ও অন্যান্য সহায়তা বাজারকে বিকৃত করতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতা বাড়তে পারে। দুর্বল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং কমে যাওয়া বাজার চাহিদার কারণে কিছু শিল্পে এ সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উৎপাদনের কারণে স্থানীয় শিল্প, সরবরাহব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশগুলো। এর ফলে বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দেশের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা বাড়তে পারে।
যেসব খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ জানানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গাড়ি ও বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, রাসায়নিক পণ্য, মৌলিক সেমিকন্ডাক্টর এবং সৌর প্যানেল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এসব খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন বিভিন্ন দেশের স্থানীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ সমস্যা মোকাবিলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে নতুন বিশেষ প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশগুলো। এসব প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উৎপাদনের বিষয়টি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ওইসিডির বাণিজ্য কমিটির বৈঠকের ফাঁকে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। ওইসিডির সদস্য নয়—এমন দেশসহ অন্যান্য দেশকেও এ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশগুলো ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের আগে কারিগরি পর্যায়ে বৈঠক করার অঙ্গীকার করেছে। ওই বৈঠকে কাজের নিয়ম ও পরিধি নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রকাশযোগ্য তথ্য ও উপাত্ত ভাগাভাগি করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তথ্যের ঘাটতি কোথায় রয়েছে তা চিহ্নিত করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)সহ বিভিন্ন উৎসের তথ্য ব্যবহার করা হবে।
অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে বাণিজ্য ও শ্রমিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের অর্থনীতি সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও দেশগুলো পর্যালোচনা করবে। যেখানে সম্ভব, এসব পদক্ষেপ পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোতে বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ১৫ দেশ।