পাহাড়ের বাঁকে মেঘের খেলা, চারদিকে সবুজের সমারোহ আর নীল আকাশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
পর্যটকের বাড়তি চাপে জেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে শতভাগ বুকিং হয়েছে। আগাম সংরক্ষণ ছাড়া এসে অনেক পর্যটককে আবাসন খুঁজতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বান্দরবানের মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি, বগালেক, কেওক্রাডং, থানচি ও তমাতুঙ্গীসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দেখা যাচ্ছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব স্থানে পর্যটকদের পদচারণে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বাড়তি যানবাহনের চাপে শহরের প্রধান সড়ক ও পাহাড়ি পথেও দেখা দিচ্ছে যানজট।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের চাপ বেশি। এতে হোটেল-রিসোর্টের পাশাপাশি পরিবহন, খাবারের দোকান ও পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে গড়ে ওঠা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে।
শহরের অন্যতম আকর্ষণ নীলাচল ও মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পাহাড়ের ওপর থেকে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ, ছবি তোলা এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত পর্যটকেরা। একই চিত্র দেখা গেছে চিম্বুক ও নীলগিরিতেও।
পর্যটনকেন্দ্রগুলোর টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানান, কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজারের বেশি প্রবেশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। নীলাচলে সকাল থেকে আড়াই হাজারের বেশি পর্যটক প্রবেশ করেছেন। দিনের বাকি সময়ে এ সংখ্যা চার হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
পর্যটকের চাপ বাড়ায় সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে আবাসন নিয়ে। অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে যাওয়ায় আগে থেকে সংরক্ষণ না করা পর্যটকদের বিকল্প থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে।
টাঙ্গাইল থেকে আসা রোমান বলেন, হোটেল না পেয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে পাহাড়ের সৌন্দর্য সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে প্রথমবার বান্দরবানে বেড়াতে এসেছেন মিজবাহ। কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার পর তাঁর কাছে নীলাচল সবচেয়ে ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।
গাজীপুর থেকে আসা সবুজ বলেন, এর আগেও অনেকবার বান্দরবানে এসেছেন। পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তাঁকে বারবার মুগ্ধ করে। সুযোগ পেলেই তিনি বান্দরবানে ছুটে আসেন।
পরিবহন খাতেও বেড়েছে ব্যস্ততা। জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির লাইনম্যান মো. কামাল হোসেন জানান, সকাল থেকে প্রায় ৩০০টি পর্যটকবাহী গাড়ি বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। প্রতিটি গাড়িতে ১২ থেকে ১৩ জন করে পর্যটক ছিলেন।
জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা বলেন, দুর্গাপূজার পরপরই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা উৎসব থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। আগামী ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর মারমা বৌদ্ধদের ঐতিহ্যবাহী ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এ উৎসব ঘিরেও পর্যটকের সমাগম বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। টিকিট ব্যবস্থাপনা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের এই ঢল বান্দরবানের পর্যটননির্ভর ব্যবসায় নতুন গতি এনেছে। তবে বাড়তি পর্যটকের চাপ সামলে পর্যাপ্ত আবাসন, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্টদের বড় চ্যালেঞ্জ।
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.