পিঁপড়া তাড়ানোর জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। তবে বাড়িতে শিশু থাকলে সেগুলো ব্যবহার না করাই ভালো। এ ছাড়া রাসায়নিক ব্যবহারের পর ভালোভাবে হাত না ধুলে আপনি নিজেও স্বাস্থ্যের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই পিঁপড়া তাড়ানোর জন্য বেছে নিন প্রাকৃতিক উপায়। জেনে নিন করণীয়-
পিঁপড়ের উপদ্রব যদি অনেক বেশি হয় এবং ঘরোয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা প্রবেশপথ বন্ধ করলেও তেমন একটা লাভ হয় না। তখন অ্যান্ট বেট বা অ্যান্ট চক, নির্দিষ্ট কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রাসায়নিক ব্যবহার করলে প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। শিশু ও পোষ্য প্রাণী যাতে এর নাগাল না পায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সমস্যা গুরুতর হলে পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোলের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ বিকল্প।
পিঁপড়ের উপদ্রব কমাতে কী কী নজর রাখবেন?
প্রথমেই রান্নাঘর ও ঘরের পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিন। খাবারের কণা, চিনি বা মিষ্টি জাতীয় কোনও কিছু পড়ে থাকলে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন। খোলা খাবার ঢাকনাযুক্ত কৌটো বা বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন এবং বাসনপত্র দীর্ঘক্ষণ অপরিষ্কার অবস্থায় ফেলে রাখবেন না।
পোষ্যের খাবারও দীর্ঘক্ষণ বাইরে রেখে না দেওয়াই ভালো। একই সঙ্গে কল বা পাইপ থেকে জল পড়লে তা ঠিক করুন এবং সিঙ্ক বা অন্য কোথাও জল জমে থাকতে দেবেন না। খাবার ও জলের সহজ উৎস না পেলে বাড়িতে পিঁপড়ের আনাগোনাও নিজের থেকেই কমবে।
লেবুর রস :
যেসব স্থান থেকে পিঁপড়া বেরোয়, সেসব স্থানে লেবুর রস কিংবা লেবুর খোসা দিয়ে রাখুন। এমনকি ঘর মোছার সময়ও বেশ খানিকটা লেবুর রস মিশিয়ে, সেই পানি দিয়ে ঘর মুছুন। দেখবেন পিঁপড়ার উপদ্রব অনেকটাই কমে গেছে। এ ছাড়া রান্নাঘরের স্ল্যাব সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং লেবুর খোসা সেখানে রাখুন।
মাল্টা :
লেবুর মতো মাল্টাও পিঁপড়া তাড়াতে কার্যকর। এক কাপ গরম পানি এবং কমলালেবুর কয়েকটি খোসা বেটে নিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট পিঁপড়ার প্রবেশপথের চারপাশে ছড়িয়ে, কিছুক্ষণ পর মুছে ফেলুন। আপনি চাইলে রান্নাঘরের স্ল্যাবের ওপরেও কয়েক টুকরো মাল্টার খোসা রেখে দিতে পারেন।
গোলমরিচ :
পিঁপড়ার চিনি খুব পছন্দ হলেও, গোলমরিচ একদমই পছন্দ করে না। তাই পিঁপড়ার প্রবেশপথে গোলমরিচ ছড়িয়ে রাখুন। এ ছাড়াও পিঁপড়ার প্রবেশপথে যদি গোলমরিচ এবং পানির মিশ্রণ ছড়িয়ে দেয়া হয়, তাহলে পিঁপড়ার উপদ্রব অনেকটাই কমে।
লবণ :
লবণও পিঁপড়ার উপদ্রব দূর করতে সহায়তা করে। ঘরের কোণে অথবা কোনো ফাটলে লবণ ছড়িয়ে রাখুন। এ ছাড়া লবণ এবং গরম পানির মিশ্রণ, পিঁপড়ার প্রবেশপথ এবং দেয়ালে স্প্রে করুন। দেখবেন পিঁপড়া চলে যাবে।
সাদা ভিনেগার :
পিঁপড়া সাদা ভিনেগারের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। সমানুপাতে সাদা ভিনেগার এবং পানির মিশ্রণ তৈরি করুন। এতে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকান। এই মিশ্রণটি পিঁপড়ার প্রবেশপথ, দেয়াল, ঘরের কোণ, দরজা-জানলা, প্রভৃতি স্থানে স্প্রে করুন।
পিপারমিন্ট অয়েল :
রান্নাঘর, বাথরুম এবং বাড়ির অন্যান্য জায়গা থেকে পিঁপড়া তাড়াতে, তুলার বল বানিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল দিন এবং স্ল্যাব, ক্যাবিনেট এবং প্যান্ট্রিতে, আবর্জনার পাত্রে এবং যেখানে বেশি পিঁপড়া থাকে সেখানে রাখুন। পিঁপড়া দূরে পালাবে।
দারুচিনির গুঁড়া :
যে ক্যাবিনেট কিংবা তাকে খাবার রাখেন, তার মধ্যে এবং আশপাশে খানিকটা দারুচিনির গুঁড়া ছড়িয়ে রেখে দিন। টেবিলে খাবার বা ফল ঢাকা দিয়ে রাখলেও তার চারপাশে দারুচিনির গুঁড়া ছড়িয়ে রাখুন, পিঁপড়া আসবে না। এ ছাড়া রাতে ঘুমাতে যাবার আগে পিঁপড়ার বাসা ও এর আশপাশে দারুচিনির গুঁড়া ছিটিয়ে দিন, সকালে উঠে দেখবেন পিঁপড়ার দল পালিয়েছে।
আরো কিছু-
পিঁপড়ে যে পথে চলাচল করছে, সেই জায়গায় ভিনিগার ও জলের হালকা মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি স্প্রে বোতলে জল ও ভিনিগার মিশিয়ে পিঁপড়ের চলার জায়গায় ছড়িয়ে দিতে পারেন। একইভাবে জল ও বাসন মাজার লিকুইড সাবান মিশিয়ে পিঁপড়ের চলার পথ মুছে দিতে পারেন। এতে তাদের তৈরি রাসায়নিক গন্ধের পথটি সাময়িকভাবে নষ্ট হয় এবং একই জায়গা দিয়ে বারবার আসার প্রবণতা কমে যায়। তবে এই ধরনের ঘরোয়া উপায় সাধারণত সাময়িক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, আশেপাশে পিঁপড়ের বাসা থাকলে সেটা আলাদাভাবে নষ্ট করতে হবে।
বাড়িতে থাকা কিছু তীব্র গন্ধের মশলা ব্যবহার করেও পিঁপড়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। গোলমরিচ, তেজপাতা ও লবঙ্গ একটি ছোট কাপড়ের পুঁটলিতে ভরে পিঁপড়ের চলাচলের জায়গায় রাখা যেতে পারে। গোলমরিচের গুঁড়োও ব্যবহার করা যায়।
তবে এগুলি কিন্তু পিঁপড়ে নির্মূল করার উপায় নয়। এতে কেবল সাময়িক স্বস্তি মিলবে। পাশাপাশি দেওয়াল, জানলা, দরজা, পাইপ বা রান্নাঘরের ক্যাবিনেটের আশপাশে যে ছোট ফাঁক দিয়ে পিঁপড়ে ঢুকছে, সেগুলি সিল করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই





