২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচনের সময় অ্যাপল দাবি করেছিল, আগের মডেলের তুলনায় এই ফোনে ব্যাটারি লাইফের সবচেয়ে বড় উন্নতি আনা হয়েছে। তবে বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যাটারির স্থায়িত্বে এই উন্নতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। এবার প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ফোন অ্যারেনার এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যাটারি পারফরম্যান্সে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রাকে পেছনে ফেলেছে।
ইউটিউবে ভিডিও চালিয়ে করা পরীক্ষায় আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স টানা ১২ ঘণ্টা ৬ মিনিট চলেছে। অন্যদিকে একই পরীক্ষায় গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রা চলেছে ৯ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। অর্থাৎ দুই ফোনের ব্যাটারি স্থায়িত্বের মধ্যে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের ব্যবধান পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় উভয় ফোনের পর্দার উজ্জ্বলতা একই রাখা হয়েছিল এবং একই ভিডিও চালানো হয়েছিল।
ইউটিউবার মিস্টারহুজদ্যবসের পরিচালিত পরীক্ষাতেও প্রায় একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। সেখানে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স—দুটি মডেলই স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ ফোনকে পেছনে ফেলেছে।
ফলে নিয়মিত ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে ব্যাটারি স্থায়িত্বকে প্রধান বিবেচনা করলে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এগিয়ে থাকতে পারে। তবে শুধু ব্যাটারি পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যান্য ব্যবহারিক দিকও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
এই পার্থক্যের পেছনে কী কারণ?
গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রার তুলনায় আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের ব্যাটারির ধারণক্ষমতা বেশি। ব্যাটারির স্থায়িত্ব শুধু ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; প্রসেসরের দক্ষতা, সফটওয়্যারের অপটিমাইজেশনসহ আরও কয়েকটি বিষয় এতে প্রভাব ফেলে। তবে বড় ব্যাটারিও আইফোনটির এগিয়ে থাকার একটি কারণ হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের ই-সিম সংস্করণে ৫ হাজার ৫৬৭ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (এমএএইচ) ব্যাটারি রয়েছে। অন্যদিকে গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রায় রয়েছে ৫ হাজার এমএএইচের ব্যাটারি। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দিক থেকে আইফোনটির ব্যাটারি প্রায় ১১ শতাংশ বড়।
গ্যালাক্সি এস২০ সিরিজের মাধ্যমে প্রথম আলট্রা মডেল বাজারে আনার পর থেকে স্যামসাং তাদের আলট্রা সিরিজের ফোনগুলোতে মূলত ৫ হাজার এমএএইচের ব্যাটারি ব্যবহার করে আসছে। অন্যদিকে কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া অ্যাপল প্রো ম্যাক্স সিরিজের বিভিন্ন প্রজন্মে ধীরে ধীরে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা বাড়িয়েছে।
এ ছাড়া হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ওপর অ্যাপলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ব্যাটারির কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। স্যামসাংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলনামূলক জটিল। কারণ, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে গুগল। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার বাজারে গ্যালাক্সি এস সিরিজের ফোনগুলোতে স্যামসাং সাধারণত কোয়ালকমের চিপ ব্যবহার করে।
সূত্র: বিজিআর





