ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদের বিরুদ্ধে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরার আনা গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওতে সদর উপজেলার সদ্য বিদায়ী ইউএনও হোসনে আরাকে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসক তাকে টাকাসহ বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।
অডিওতে ইউএনও হোসনে আরা বলেন, একজন কর্মকর্তার মধ্যে যত ধরনের খারাপ দোষ থাকতে পারে, তার সবই জেলা প্রশাসকের মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বারবার পরিষদের জন্য বিধিবহির্ভূত বরাদ্দ নিতে চাপ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়। এমনকি অসুস্থ দুই সন্তান নিয়ে তাকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। জেলার বিভিন্ন ইটভাটা থেকে কমিশন গ্রহণ, ঘুষ বাণিজ্য এবং সরকারি বিভিন্ন খাতে অনিয়মের মাধ্যমে একটি দুর্নীতির চক্র গড়ে তোলার অভিযোগও উঠে এসেছে। কর্মকর্তাদের কেউ এসব বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না; প্রতিবাদ করলেই শাস্তির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ২৮ মার্চ জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সখ্যতার অভিযোগ তুলে কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন তথ্য ও ছবি ভাইরাল করা হয়। তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ওইদিন রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জেলা প্রশাসক। তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন, একটি চক্র তার মানহানি করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অপরদিকে, অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অভিযুক্ত জেলা প্রশাসকের দ্রুত বদলি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
