বগুড়ার শিবগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শাহানাজ বেগম(৭১) হত্যা মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে একই উপজেলার কুপা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম সুলতানা বেগম(৪৭)। তিনি শিবগঞ্জের কুপা গ্রামের বাসিন্দা মৃত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহাব্বত নন্দীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে শাহানাজ বেগমকে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবগঞ্জ সার্কেল) রবিউল ইসলাম ও থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামানসহ থানার একটি টিম তদন্তে নামে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় ও গোয়েন্দা তৎপরতায় রবিবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে সুলতানা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, আর্থিক সংকটে সুলতানা বেগম ও তার ছেলে রোহান রহমান সিয়াম(৩০) ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুলতানা বেগম পরিচিতির সুবাদে নিহতের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং পরে তার ছেলেকে ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, টাকা-পয়সা লুটের উদ্দেশ্যে শাহানাজ বেগমকে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় তারা। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা বাহির থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা খুলে শাহানাজকে রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের উপর পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, “ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সুলতানা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
