ভুটানে পরপর তিন দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা। রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাতে প্রথম ও সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়, যার প্রভাব দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমলজির (এনসিএস) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে ভুটানের রাজধানী থিম্পুর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২৪ কিলোমিটার গভীরে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬।
প্রথম ভূমিকম্পের পর দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় প্রবল কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কিত হয়ে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। ঢাকাসহ আশপাশের এলাকাতেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে।
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমলজিকাল (ইএমএসসি) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
এনসিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পের ১১ মিনিট পর রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে একই এলাকায় ২ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। এরপর দ্বিতীয় ভূমিকম্পের ৩৪ মিনিট পর, অর্থাৎ রাত ১২টা ২২ মিনিটে ২ দশমিক ৪ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এ ধরনের ছোট মাত্রার কম্পন সাধারণত আফটারশক বা পরাঘাত হিসেবে দেখা দিতে পারে।
কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ