কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় একটি বহুতল ভবনে কাজ করতে গিয়ে আরিফ হোসেন রুবেল (২৬) নামে এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি লিফটে পড়ে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন, নাকি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ লিফটের নিচে ফেলে রাখা হয়েছে এ নিয়ে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল প্রায় ১১টার দিকে ভবনটির পঞ্চম তলায় বাথরুমে টাইলস বসানোর কাজ করছিলেন রুবেল। একপর্যায়ে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে ভবনের লিফটের নিচে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহত রুবেল নোয়াখালীর মোহাম্মদপুর সোনামিয়া এলাকার আবদুস সুবহানের ছেলে। তিনি কুমিল্লা শহরের টমছমব্রিজ এলাকার আশরাফ টাওয়ারের নিচতলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। মাত্র তিন দিন আগে তিনি ওই ভবনে কাজ শুরু করেছিলেন।
সহকর্মীরা জানান, কয়েকজন মিলে একসঙ্গে কাজ করছিলেন তারা। হঠাৎ রুবেলকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে নিচে তাকিয়ে লিফটের নিচে তার মরদেহ দেখতে পান। তাদের ধারণা, অন্ধকারের কারণে ভুলবশত লিফটের ফাঁকা স্থানে পা পড়ে গিয়ে তিনি নিচে পড়ে যেতে পারেন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনাটি রহস্যজনক।
রুবেলের ভাই ফাহিম বলেন, আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় কাজ করছে। তার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। এত উঁচু থেকে পড়লে শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা, কিন্তু তেমন কিছু দেখা যায়নি। কীভাবে সে লিফটের নিচে গেল, তা বুঝতে পারছি না।
নিহতের বোন রোজিনা বলেন, এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু আমরা নিশ্চিত নই। আমরা সঠিক তদন্ত চাই। তবে মরদেহ নিয়ে যেতে চাই, ময়নাতদন্ত করতে চাই না। পাশের ভবনের বাসিন্দা প্রবাসী ফারুক হোসেন বলেন, কাজ করার সময় কেউ লিফটে পড়ে গেলে শরীর থেঁতলে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে তেমন লক্ষণ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডও হতে পারে।
এ বিষয়ে চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
