চলমান যুদ্ধ অবসানের চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী’ এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অবরোধ কার্যকরের মার্কিন তৎপরতা বন্ধ হলো।
অবরোধ তুলে নেওয়ার পর এক ডজনেরও বেশি জাহাজকে বন্দরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হোয়াইট হাউসের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স এই ঘোষণা দেন।
এই চুক্তিতে বেশ কিছু বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া।
তবে জেডি ভ্যান্স বলেনছেন, চুক্তির শর্তগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত ইরান কোনো অর্থ পাবে না বা নিষেধাজ্ঞা থেকেও ছাড় পাবে না।
সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ অনুযায়ী, ইরান এখনই কোনো সুবিধা পাবে না। এর আগে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা ‘পুরোপুরি নিয়ম মেনে চলবে এবং নিজেদের আচরণ বদলাবে’। এই প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে-ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে আর কোনো অর্থ দেওয়া চলবে না।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেডি ভ্যান্স আরও জানান, চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে পরবর্তী ৬০ দিন আরও আলোচনা চলবে। ‘কারিগরি আলোচনার’ জন্য তিনি শিগগিরই সুইজারল্যান্ডে যেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন।
তবে তিনি কবে যাবেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি। ভ্যান্স বলেন, ইরান ‘খুব একটা সহজ দেশ নয়’। তাই এই সফরটি ঠিক কবে হবে, তা তারা বোঝার চেষ্টা করছেন।
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা ছিল। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান বিবিসিকে জানিয়েছে যে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। কারণ, চুক্তিটি এরইমধ্যে সই হয়ে গেছে।