ঢাকা: নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সেবা থেকে গত তিন বছরে সরকারের রাজস্ব তহবিলে প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে। মূলত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে নাগরিকদের তথ্য যাচাই এবং বিপুল সংখ্যক এনআইডি সংশোধনের ফি থেকে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আয় হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বিষয়টি জানিয়েছে।
প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সময়কালে ইসির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪২৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩৪ হাজার ১৯ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক, বীমা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রায় ২০০টি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক নবায়ন ফি এবং নাগরিকদের পরিচিতি যাচাইয়ের সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ১৫ লাখের বেশি নাগরিকের পরিচয়পত্র সংশোধন ও হারানো কার্ড তোলার ফি থেকেও একটি বড় অঙ্কের রাজস্ব এসেছে। তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের আয়ের চূড়ান্ত হিসাব এখনও সম্পন্ন হয়নি।
বর্তমানে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতিবার ১ টাকা এবং বেসরকারি খাতের জন্য ৫ টাকা করে ফি নির্ধারিত রয়েছে। তবে ইসি এই ফি কিছুটা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ভ্যাটসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি ৩ টাকা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি ৮ টাকা হতে পারে।
বর্তমানে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ নাগরিকের তথ্য রয়েছে ইসির মূল সার্ভারে, যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা নারীদের চেয়ে কিছুটা বেশি এবং তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকও রয়েছেন এক হাজারের ওপরে।