নাইক্ষ্যংছড়ির গহীন পাহাড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি

X
নাইক্ষ্যংছড়ি থানা
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বাইশারী ইউনিয়নের হাতির ডেরা নামক স্থানে একটি অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। কঙ্কালটির পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাইশারী বাজার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা নামক এলাকায় ডিভাইন রাবার গার্ডেনের গয়াল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রাখাল আনোয়ারসহ সাতজন শ্রমিক সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় গয়াল আনতে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গহীন পাহাড়ি জায়গায় একটি মানব কঙ্কাল দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অবহিত করেন।
খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নির্দেশে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলাট্য চাকমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালটির বিভিন্ন হাড়গোড় ও মাথার খুলি ছাড়াও একটি ব্যাগ, কিছু ওষুধ, তারকাটা, একটি লুঙ্গি এবং একটি চাদর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত পর্যালোচনা করে কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, “উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কঙ্কালটি কতদিন আগের, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন হতে পারে।”
এ বিষয়ে বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, “উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি কার, তা দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। এতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।”
বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্কালটি অনেক দিনের পুরোনো। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।”
স্থানীয়দের ধারণা, দুর্গম ও জনবিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকার কারণেই মরদেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া আলামত ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।