পকেট খালি কিন্তু অথচ মন চাইছে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে? অনেকেই ভাবেন, অনেক টাকা না হলে বুঝি চমৎকার ট্যুর দেওয়া সম্ভব নয়। এই ধারণা কিন্তু একদম ভুল! একটু বুদ্ধি খাটিয়ে পরিকল্পনা করলেই সীমিত বাজেটেও দারুণ সব জায়গায় ঘুরে আসা সম্ভব। ইকোনমি ট্যুর প্ল্যানিংয়ের এমন ৪টি কৌশল নিচে দেওয়া হলো, যা আপনার ভ্রমণের খরচ অর্ধেক কমিয়ে দেবে…
থাকার খরচ বাঁচান (নাইট জার্নি)
ট্যুরের বাজেটের একটা বড় অংশ চলে যায় হোটেল ভাড়ায়। ডে-ট্রিপ বা ১ দিনের ট্যুর হলে এই খরচটা আপনি সহজেই শূন্যে নামিয়ে আনতে পারেন। এর জন্য বেছে নিন ‘নাইট জার্নি’। রাতে বাসে বা ট্রেনে রওনা দিন, সারাদিন ঘুরে আবার পরের দিন রাতের বাসে ফিরতি পথ ধরুন। এতে হোটেলের পেছনে এক টাকাও খরচ হবে না, আবার ঘোরার জন্য পুরো একটা দিনও পেয়ে যাবেন।
গ্রুপ ট্যুর ও যাতায়াত শেয়ারিং
যাতায়াত খরচ কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গ্রুপে ভ্রমণ করা। কোনো গাড়ি বা নৌকা রিজার্ভ করার আগে জেনে নিন সেখানে সর্বোচ্চ কতজন বসা সম্ভব। সেই অনুযায়ী বন্ধু বা সহযাত্রী নির্বাচন করুন, যাতে মোট ভাড়াটা সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ হয়ে যায়। এছাড়া কাছাকাছি দূরত্বের পথগুলো গাড়িতে না চড়ে হেঁটে উপভোগ করুন; এতে টাকাও বাঁচবে, জায়গাট্টাও ভালো করে দেখা হবে।
সাধারণ খাবারে রসনাতৃপ্তি
ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জায়গাটা ঘুরে দেখা, দামি রেস্তোরাঁয় ভূরিভোজ করা নয়। বাজেট ট্রাভেলার হতে চাইলে ট্যুরে যাওয়ার আগেই সেখানকার সস্তা অথচ মানসম্মত লোকাল হোটেলের খোঁজ নিন। ভারী খাবারের পাশাপাশি ফল বা শুকনো খাবার (যেমন: মুড়ি, বিস্কুট, খেজুর) সাথে রাখুন। এক বা দুই বেলা হালকা শুকনো খাবারে কাজ চালিয়ে নিলে পকেটের ওপর চাপ অনেক কম পড়বে।
কেনাকাটায় লাগাম ও স্মার্ট প্যাকিং
ভ্রমণে গিয়ে দরকারি জিনিসপত্র কেনার অভ্যাস পরিহার করুন। ট্যুরে রওনা হওয়ার আগেই একটি তালিকা তৈরি করে টুথব্রাশ, সাবান, মেডিসিন থেকে শুরু করে ওডোমস বা ছাতা—সবকিছু বাসা থেকেই ব্যাগে গুছিয়ে নিন। স্পট থেকে অযথা স্যুভেনির বা কেনাকাটার পেছনে টাকা নষ্ট না করে, সেই বাজেটটি যাতায়াতে কাজে লাগান।
অনলাইন রিডার্স নোট: ভ্রমণ মানেই দামি রিসোর্ট বা লাক্সারি লাইফস্টাইল নয়; ভ্রমণ হলো নতুন অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির সঞ্চয়। তাই বাজেটকে অজুহাত না বানিয়ে, আজই মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলুন এবং বেরিয়ে পড়ুন নতুন কোনো গন্তব্যে!