ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বসতঘরে ঢুকে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, নগদ ৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ২৯ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠির আদালতে নালিশি মামলা করেছেন তাওহীদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। মামলায় আরও ৫-৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার উত্তর বলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত ফজলুল হক হাওলাদারকে প্রথমে আমুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীপক্ষের সঙ্গে আসামিদের জমিজমা নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর বাদীপক্ষের বাগান থেকে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়। এ সময় বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এর ধারাবাহিকতায় ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাওহীদুল ইসলামের বসতঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তার বাবা ফজলুল হক হাওলাদারকে মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, সোহেল হাওলাদার এসএস পাইপ দিয়ে তাকে পেটান। একপর্যায়ে শাহাদাৎ হাওলাদার রামদা দিয়ে তার মাথায় কোপ দেন। কোপ ঠেকাতে হাত বাড়ালে তার ডান কবজিতে গুরুতর জখম হয় এবং চারটি রগ কেটে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, পরে আসামিরা ঘরের একটি ট্রাঙ্ক থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। এ ছাড়া বাদীর স্ত্রীর এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ঘরের দরজা, ফ্রিজ, ফ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।
ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের বাধা ও ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা পালিয়ে যান। আহত ফজলুল হককে আমুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়।
মামলার বাদী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর কাঁঠালিয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠির আদালতে নালিশি মামলা করেন তিনি।
মামলা করার পর থেকে আসামিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষ। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। এমনকি পাশের ভান্ডারিয়া উপজেলায় গিয়েও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।
বাদীপক্ষের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউ কেউ অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু ব্যবসা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে এলাকায় তাদের একটি প্রভাবশালী চক্র রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. সোহেল হাওলাদার এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো হামলা, লুটপাট বা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নই। বরং আমরাই তাদের ভয়ে আতঙ্কে রয়েছি।’
কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছের রায়হান বলেন, ‘আদালতের কাগজ এখনো হাতে পাইনি। কাগজ পেলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’