কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের গোডাউন ভেঙে প্রায় ২০ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাগভান্ডার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গোডাউনের জায়গা টিন দিয়ে ঘিরে দখলে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান হাফিজ (৫০) এবং অভিযুক্ত সহিদুল ইসলাম লিটন আপন ভাই। তাঁদের বাবা মৃত মো. রোস্তম আলী।
হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, ১৯৭৮ সালে তিনি বিরোধপূর্ণ জমিটি কিনে খারিজ-খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তবে একই দাগ ও খতিয়ানের জমি নিয়ে ছোট ভাই লিটনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধপূর্ণ জায়গার সড়কসংলগ্ন অংশে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেন লিটন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের চাপে পারিবারিক সিদ্ধান্তে দেয়ালটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।
হাফিজুর রহমানের দাবি, শনিবার সকালে লিটন লোকজন নিয়ে তাঁর গোডাউন ভেঙে ফেলেন। এ সময় সেখানে রাখা লোহার রড, প্লাস্টিক, পাইপ, দরজা, শাটার ও অ্যাঙ্গেলসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গোডাউনের জায়গাটি টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি গোডাউন ভাঙা ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও হয়।
স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, বিরোধপূর্ণ জমিটি হাফিজুরের বাবা তাঁকে দলিল করে দিয়েছিলেন। এ জমি নিয়েই দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছে।’
স্থানীয় হাফেজ আলী ও আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই দেখেছি, জমিটি হাফিজুর ভোগদখল করে আসছিলেন। শনিবার সকালে লোকজন নিয়ে এসে গোডাউন ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়।’
হাফিজুর রহমান বলেন, ‘১৯৭৮ সালে জমিটি কিনেছি। খারিজ-খাজনা দিয়ে এত দিন ভোগদখল করে আসছি। একই দাগ-খতিয়ানে ছোট ভাই লিটনও জমি কিনেছেন। এখন তিনি আমার জমি দখল করে গোডাউনে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী নিয়ে গেছেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, ‘দুই ভাইয়ের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।’
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.