ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন মাঝি (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি ওই নারীর শ্বশুর। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামী দক্ষিণ আইচা থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর স্বামী পেশায় জেলে। বছরের বেশির ভাগ সময় তিনি মাছ ধরতে নদীতে থাকেন। তার শাশুড়িও অধিকাংশ সময় মেয়ের বাড়িতে থাকায় ওই নারীকে বাড়িতে একা থাকতে হতো। এই সুযোগে তার শ্বশুর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, বিষয়টি ওই নারী প্রথমে স্বামী ও শাশুড়িকে জানালে তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে শাসন করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি যাতে অন্যদের জানানো না হয়, সে জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আলমগীর ওই নারীকে খাবার, টাকা-পয়সাসহ নানা ধরনের প্রলোভন দেখান। এতে রাজি না হওয়ায় রাতে তাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন ওই নারীর স্বামী মাছ ধরতে নদীতে চলে যান। শাশুড়িও মেয়ের বাড়িতে ছিলেন। অন্যদিকে আলমগীর দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকার পর রাতে বাড়িতে ফেরেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে ওই নারী নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রাত ১২টার পর আলমগীর জানালা দিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ঘুম ভেঙে গেলে তিনি চিৎকার করে বাধা দেন। পরে নিজেকে রক্ষা করে ঘর থেকে বের হয়ে পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই নারীর আরও অভিযোগ, ঘটনার বিষয়টি স্বামী ও শাশুড়িকে জানালে তারা তাকে প্রায় ১৫ দিন ঘরে আটকে রাখেন, যাতে তিনি বাবার বাড়ির স্বজনদের বিষয়টি জানাতে না পারেন।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আলমগীর হোসেন মাঝিকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।