সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে সংকটের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ হাসান খান এ কথা বলেন। বাটেক্সপো- ২০২৬, হংকং রোডশো এবং পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ জানায়, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি বিরতির পর ফের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ফিরে আসছে পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ফ্ল্যাগশিপ প্রদর্শনী বাটেক্সপো ২০২৬। বিজিএমইএর তত্ত্বাবধানে আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাটেক্সপোর রজতজয়ন্তী সংস্করণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ১৮ নভেম্বর বাটেক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ১৯ নভেম্বর সমাপনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া সারা বিশ্ব হতে ক্রেতাদের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ও ফ্যাশন ইনফ্লুয়েনসাররা অংশগ্রহণ করবেন। এবারের বাটেক্সপোর মূল লক্ষ্য হলো- পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অভূতপূর্ব রূপান্তর, সর্বোচ্চ কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা। একইসঙ্গে হাই-ভ্যালুড, প্রযুক্তি-নির্ভর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত আধুনিক পোশাক শিল্পের ব্র্যান্ডিং করা।
গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে জ্বালানি সংকটের এই অভিঘাত বোঝা যাবে আরও অন্তত তিন মাস পর।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, পোশাকশিল্পে কোনো অভিঘাতের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। একটি কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তও একদিনে নেওয়া সম্ভব নয়। পাইপলাইনে থাকা অর্ডার শেষ করা, শ্রমিকদের আইনগত ক্ষতিপূরণ এবং ব্যাংকের চলমান দায়-দায়িত্বসহ নানা বিষয় বিবেচনা করে কারখানা বন্ধ করতে প্রায় ছয় মাসের পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়।
গত দুই মাসে জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের তথ্য অনুযায়ী কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি এমন মন্তব্যে করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তবে এর প্রকৃত প্রভাব আগামী তিন-চার মাস পর বোঝা যাবে। একইসঙ্গে ছয় মাস বা এক বছর আগের কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার কারণে এখন কোনো কারখানা বন্ধ হলে সেটিকে বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মাহমুদ হাসান খান বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং, ওয়াশিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে পোশাক কারখানাগুলো সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করে জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। এরপরও সময়মতো পণ্য পাঠাতে উদ্যোক্তারা চেষ্টা করেছেন।গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন মন্তব্যে করে মাহমুদ হাসান খান বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার বড় ধরনের সমাধান সম্ভব।