ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
সিরাজগঞ্জে এবার পেয়ারা চাষে ভালো ফলন হয়েছে। এবারে দাম থাকায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে এবং অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। ফলে পেয়ারা বাগান চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকেরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেয়ারা চাষ করেছেন। জেলার রায়গঞ্জ, কাজিপুর, বেলকুচি, উল্লাপাড়া, ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের বাগান বেশি হয়েছে। এছাড়াও যমুনার চরাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানেও পেয়ারা চাষ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি এ ফলের চারা রোপণ করা হয়। তবে সারা বছরই হাইব্রিড জাতের পেয়ারা চাষ করা হয়ে থাকে। উঁচু, দোআঁশ ও বালু জাতীয় জমিতে এ বাগান চাষ ভালো হয়। রাজশাহী ও নাটোরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পেয়ারা গাছের চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করেন কৃষকেরা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে থাই, কাজী, বারি-১, ২ ও ৩। সিরাজগঞ্জে থাই ও কাজী জাতের পেয়ারা চাষ বেশি হয়ে থাকে। বাগান ছাড়াও এলাকাবাসি নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনাসহ নিজেদের ঝাড়-জঙ্গলে দেশি জাতের পেয়ারা গাছও লাগিয়ে থাকেন। কৃষক শাহিন আলম, সোবাহান জানান, আমাদের জমিতে প্রায় ২ গজ পরপর বাঁশ, সিমেন্টের খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে স্ট্রাকচার তৈরি করতে হয়। এরপর ওই স্ট্রাকচার ঘিরে পেয়ারার চারা রোপণ করা হয়। প্রায় ছয় মাস পর থেকেই বাগানের গাছে ফুল ও পেয়ারা উৎপন্ন শুরু হয়। বাগানে পেয়ারা প্রায় ১০ গ্রাম ওজন হলেই পলি পড়ানো হয়, যাতে পশুপাখি এ ফলের ক্ষতি করতে না পারে। একটি বাগান থেকে প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত ফল উৎপাদন হয়ে থাকে। এবার এ বাগান চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকেরা কম খরচে বেশি লাভের আশায় আরও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দত্তবাড়ী গ্রামের রেজাউল করিম (৫০) জানান, প্রতিবারের ন্যায় এবারও আমার নিজস্ব ১০ ডিসিমাল জায়গায় বাগান করে থাই জাতের পেয়ারা চাষ করেছি। বেলকুচি উপজেলার সূবর্ণসড়া গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, আমার পেয়ারার বাগানে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিক বাগানে কাজ করছেন। তিনি আরও জানান, এ বছর পেয়ারা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি পাইকারি দরে বিক্রি শুরু হয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তিনি। উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সূবর্ণা ইয়াসমিন সুমি জানান, এবছর উল্লাপাড়া উপজেলায় ২৪ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের বিভিন্ন সময় উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, এবার পেয়ারার বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকেরা লাভবান হওয়ার কারণে পেয়ারা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ চাষে জড়িত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতাও ফিরে এসেছে।
ফোন: +৮৮০৯৬১১৪৫১৮৭১
সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা
ই-মেইল: [email protected]