পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দেড় লাখ ইট বিক্রির চুক্তি করে সোয়া সাত লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মেসার্স পদ্মা এন্টারপ্রাইজ নামের পাঁচ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। খুরশিদা পারভীন দীনা নামের এক ভুক্তভোগী গত মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) ভাঙ্গুড়া থানায় এই প্রতারণার মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ লিটন হোসেন নামের এক ভাটা মালিককে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের শাহানগর এলাকায় কয়েক বছর আগে উত্তর মেন্দা এলাকার আলমগীর হোসেন, মসজিদ পাড়ার লিটন হোসেন, মাহাফজুর রহমান হেলু, কুমড়াডাঙ্গা এলাকার ইকরামুল হক ও দক্ষিণ মেন্দা পালপাড়ার মিন্টু কুমার দে মিলে মেসার্স পদ্মা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ইটভাটা গড়ে তোলেন। ভাটা চালুর কিছুদিন পরই তারা অগ্রিম ইট বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে কার্যক্রম বন্ধ করে তারা গাঢাকা দেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ক্রেতারা ইট না পেয়ে এবং পাওনা টাকার জন্য বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর বিকেলে মেসার্স পদ্মা এন্টারপ্রাইজের অফিস কক্ষে দেড় লাখ ইট ক্রয়ের জন্য মোট ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। অভিযুক্তদের একজন টাকা বুঝে নিয়ে একটি মানি রিসিট দেন এবং মৌখিক চুক্তি হয় যে যখন ইচ্ছা ইট নেওয়া যাবে। কিন্তু পরবর্তীতে ইট চাইতে গেলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। দীর্ঘ দিন ধরে ঘোরাহুরি করার পর গত ২০ আগস্ট বিকেলে বকুলতলা মোড়ে অভিযুক্তদের কাছে ইট বা টাকা ফেরত চাইলে তারা তা অস্বীকার করেন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, পদ্মা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মাহাফুজুর রহমান হেলু ১০ থেকে ১২ বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ঢাকায় চলে গেছেন, যার কারণে বাকিরা বিপদে পড়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি এবং ইকরামুল হক ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে তাদের অংশের টাকা আগেই পরিশোধ করেছেন এবং তার ডকুমেন্ট তাদের কাছে আছে। তবে অন্য পার্টনারদের অংশের টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম জানান, প্রতারণার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।