দখলদারমুক্ত হলো মাদ্রাসার জমি, ইসলামপুরে উচ্ছেদ অভিযান
X
ছবি: প্রতিনিধি
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বেদখল করে রাখা মরহুম জমর উদ্দিন ও মরহুমা আমিরুন্নেসা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা জমিটি আদালতের নির্দেশে ঢাক ঢোল পিটিয়ে পুনরুদ্ধার করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মালমারা মৌজায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
ইসলামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজোয়ান ইফতেকার স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, জামালপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মিস পিটিশন মামলা নং-১০৭/২০২০-এর আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকাল সারে ১১টায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বেদখলকৃত জমি পুনরুদ্ধার করা হয়।
মোবাইল কোর্ট চলাকালে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর তফসিলভুক্ত বিধান এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৬, ১৮৭ ও ১৮৮ ধারার আওতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মামলার বাদী মো. আব্দুস ছাত্তার পিতা: মৃত জমর উদ্দিন, গ্রাম সভারচর, ইউনিয়ন গোয়ালেরচর, ইসলামপুর এবং বিবাদী আজিজুল হক ওরফে আইজল গং পিতা: মৃত হাজর সেখ, একই এলাকার বাসিন্দা, উচ্ছেদ কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সাংবাদিক, উচ্ছেদ কর্মী, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জমির মালিকের সহোদর ভাই, পুলিশ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ জমিটি জোরপূর্বক বেদখল করে রেখেছিল। আমরা জমিটি একটি মাদ্রাসার নামে দান করেছি। প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা ও যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে জমিটি উদ্ধার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
ইসলামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজোয়ান ইফতেকার জানান, আদালতের রায় অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে জমিটি প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মালমারা মৌজার আর.এস. খতিয়ান নং-৪৬৩ এবং আর.এস. দাগ নং-১৬৮-এর অন্তর্ভুক্ত প্রায় ০.৩৫ একর জমিতে এ উচ্ছেদ ও দখল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বসতবাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে জমিটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বেদখলে ছিল। আদালতের নির্দেশনার পর প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জমিটির দখল পুনরুদ্ধার করে এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ গ্রহণ করে।