দুপচাঁচিয়ায় ১৪ কোটি টাকা নিয়ে এনজিও রেইনবো উধাও, প্রতিবাদে মানববন্ধন
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি

X
ছবি: প্রতিনিধি
রেইনবো মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের একটি এনজিওর দুপচাঁচিয়া শাখা অফিসের প্রায় ৩ শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ১৪ কোটি টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। জমাকৃত টাকা ফেরতের দাবিতে উন্নয়নকর্মী ও গ্রাহকরা মঙ্গলবার (২৩ জুন) বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের দুপচাঁচিয়া থানা বাসস্ট্যান্ডে আধাঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন রেইনবো দুপচাঁচিয়া শাখার উন্নয়নকর্মী মিনা আক্তার, গ্রাহক নেহার আলী, রেহেনা বেগম, আশরাফ আলী ও রেজাউল প্রামাণিক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালে রেইনবো মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের দুপচাঁচিয়া শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন শাখা ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দুপচাঁচিয়া ধাপসুখানগাড়ি রহমানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হাফেজ আব্দুর নূর খন্দকার। পরে তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দায়িত্ব পালনকালে তিনি গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিপিএস (DPS) ও এফডিআর (FDR) খোলার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করে অফিসে জমা করেন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত অফিসটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হলেও ২০২৪ সাল থেকে কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এরপর থেকেই গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এ সময় উন্নয়নকর্মীরা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হন।
২০২৫ সালের জুন মাসে রেইনবোর কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বগুড়ার শেরপুর রোডস্থ কলোনি অফিসে গ্রাহকদের উপস্থিত হতে বলেন। সে অনুযায়ী উন্নয়নকর্মী ও গ্রাহকরা অফিসে উপস্থিত হলে তাদের সারাদিন বসিয়ে রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উধাও হয়ে যান। ওই দিন বিকেলে গ্রাহকরা বগুড়া কলোনি সড়কে সাময়িক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এরপরও রেইনবো কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পেয়ে তারা বগুড়া জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন।
এতকিছুর পরও তাদের জমাকৃত লাখ লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধন শেষে উন্নয়নকর্মী ও গ্রাহকরা তাদের টাকা দ্রুত ফেরতের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান আমিরুজ্জামান পিন্টু ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হামিদুল ইসলাম তোজারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রেইনবোর দুপচাঁচিয়া শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন ইনচার্জ হাফেজ আব্দুর নূর খন্দকার মুঠোফোনে বলেন, “রেইনবো কর্তৃপক্ষ অফিস ভাড়া নেওয়ার জন্য আমার কাছে আসে। অফিস ভাড়া নেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ আমাকে ইনচার্জের দায়িত্ব নিতে বলে। আমি এক বছর সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের পর আমার স্ত্রীকে ইনচার্জের দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলি। তিনি ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে আরও চারজন ব্যক্তি ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গ্রাহকরা অন্য ইনচার্জদের দোষারোপ না করে শুধু আমাকে ও আমার স্ত্রীকে জড়াচ্ছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এরপরও এলাকার মানুষের গচ্ছিত টাকা ফেরত না পাওয়ায় আমাদের বলা হলে আমরা টাকা আদায়ের জন্য গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়ে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।”