
রোমোর ভলিতে বল যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার জালে
দুর্ভাগ্যজনকভাবে পিছিয়ে পড়ার পর প্রাণপণ চেষ্টা করল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু ব্যবধান আর ঘুচাতে পারল না তারা। জমাট রক্ষণ আর গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল মেক্সিকো। সবার আগে শেষ ষোলোয় খেলা নিশ্চিত করল বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে গুয়াদালাহারায় ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধে সৌভাগ্যের গোলে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন লুইস রোমো। ২ ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট চূড়ায় আছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। ২ ম্যাচে এক জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া। চেকিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট ১ করে।
লুইস রোমো খেলেন মেক্সিকোরই ক্লাব সি.ডি গুয়াদালাহারায়। এই ক্লাবের হোম ভেন্যু এস্তাদিও আকরন, যে কারণে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এখানে খেলতে নামেন রোমো। ৩১ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডারের সৌভাগ্য, শুক্রবার সেই এস্তাদিও আকরনেই তার বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছে। তার চেয়েও বড় কথা, অভিষেকের দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একমাত্র গোলটিও করেছেন রোমোই। যে গোল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে মেক্সিকো এনে দিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট।
ম্যাচের ৫০তম মিনিটে রোমোর গোলটিতে অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার গোলকিপার কিম সুং-গিউয়েরও ‘অবদান’ আছে। একটি ক্রস ধরতে বেরিয়ে এসে তিনি নিজের এক সতীর্থের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বল হাত থেকে ফেলে দেন। সেই সুযোগই কাজে লাগান রোমো। বক্সের ভেতর দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন তিনি।
এর আগে দুই দলের প্রথমার্ধ ছিল বেশ নিষ্প্রভ। আক্রমণে দুই দলই খুব বেশি ধার দেখাতে পারেনি। মেক্সিকোর হয়ে প্রথমার্ধে একমাত্র অন-টার্গেট শটটি আসে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের হেড থেকে, যা সহজেই ঠেকিয়ে দেন কিম। বিরতির পরই ম্যাচের গতি বদলাতে শুরু করে। ৫০তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। গোল খাওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও বড় সুযোগ খুব একটা তৈরি করতে পারেনি। অধিনায়ক সন হিউং-মিন একবার গোলরক্ষক রাউল রানহেলকে পরাস্ত করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
মেক্সিকোও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। ৭৫তম মিনিটে হিমিনেজ বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও কিম তা রুখে দেন। বদলি হিসেবে নামা বেদ ভারগাসের জোরালো শটও ঠেকান দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক। ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৮৭তম মিনিটে। চো গুয়ে-সুংয়ের হেড মেক্সিকো গোলকিপার রানহেল প্রতিহত করলেও বিপদ–মুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বলে ইয়াং হিউন-জুন শট নিলে সেটিও ঠেকান দারুণ দক্ষতায়। এই ডাবল সেভই শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ে টানা দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দুই নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে না হারলেই তারা গ্রপ-সেসেরা হিসেবে নকআউট পর্বে যাবে।
অন্যদিকে হারলেও দক্ষিণ কোরিয়ার নকআউটে ওঠার আশা শেষ হয়ে যায়নি। প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারানোর সুবাদে এখনো ভালো অবস্থানেই আছে তারা। শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অন্তত ড্র করতে পারলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল থাকবে এশিয়ান দলটির।
ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় উপস্থিত ছিলেন রোমো। ৫০তম মিনিটে ফাঁকা জালে বল পাঠান মেক্সিকোর এই মিডফিল্ডার। বল গ্লাভসে নিতে গিয়ে সামনে থাকা সতীর্থ লি গি-হিউকের সঙ্গে গোলরক্ষক কিম সুং-গিউ ধাক্কা খান। এতে হাত থেকে ফস্কে যায় বল, অনায়াসে জাল খুঁজে নেন সামনেই থাকা রোমো।
দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের সেরা সুযোগ পায় ৮৭তম মিনিটে। চু গিউ-সুংয়ের জোরাল হেড কোনোমতে ঠেকান রাউল রানহেল। দক্ষিণ কোরিয়া স্ট্রাইকারের ফিরতি শটও হাত বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধের নিষ্প্রভ ফুটবল বিরতির সময় দুয়ো শুনতে হয় মেক্সিকোর খেলোয়াড়দের। এগিয়ে যাওয়ার পর বাকি সময়টায় অবশ্য প্রবল সমর্থনই পান তারা। ৭৫তম মিনিটে ব্যবধান বাড়াতে পারত মেক্সিকো। দুরূহ কোণ থেকে রাউল হিমেনেসের শট ঠেকান দক্ষিণ কোরিয়া গোলরক্ষক। পরে বদলি খেলোয়াড় ওবেদ ভার্গাসের গতিময় শট ডাইভ দিয়ে ফেরান তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে আসর শুরু করা মেক্সিকো নিজেদের পরের ম্যাচে খেলবে চেকিয়ার বিপক্ষে। আগামী বৃহস্পতিরের ওই ম্যাচে হার এড়ালেই গ্রুপ সেরা হবে মেক্সিকো। হারলেও সুযোগ থাকবে, যদি একই সময়ে শুরু হওয়া দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ফল পক্ষে আসে। এই ম্যাচে হারলেও চেকিয়ার বিপক্ষে পাওয়া জয়ে শেষ ষোলোয় যাওয়ার পথে এগিয়ে আছে দক্ষিণ কোরিয়া।
ক্যাপশন : দক্ষিণ কোরিয়ার জালে বল পাঠানো উচ্ছ্বাসে ভাসছে মেক্সিকো।