সোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

ফ্রান্সের জাতীয় দিবস: ১৪ জুলাইয়ের ইতিহাস, তাৎপর্য ও উদযাপন

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন
জুলাই ১৩, ২০২৬ ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্বের ইতিহাসে এমন কিছু দিন রয়েছে, যেগুলো শুধু একটি দেশের নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফ্রান্সের জাতীয় দিবস ১৪ জুলাই তেমনই একটি দিন। প্রতি বছর এই দিনে ফরাসি জনগণ স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শকে স্মরণ করে। ফরাসি ভাষায় দিবসটি “লা ফেত নাসিওনাল” নামে পরিচিত হলেও বিশ্বের বহু দেশে এটি “বাস্টিল ডে” নামেই বেশি পরিচিত।

ফ্রান্সে ১৮৮০ সালে একটি আইনের মাধ্যমে ১৪ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হয়। তবে এই তারিখটি কেবল একটি ঘটনার স্মারক নয়; এটি দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতীক। প্রথমটি ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গ দখল এবং দ্বিতীয়টি ১৭৯০ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ফেডারেশন উৎসব। এই দুটি ঘটনাই ফরাসি প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে ফ্রান্স গভীর অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। রাজা ষোড়শ লুইয়ের শাসনামলে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত করের বোঝায় জর্জরিত ছিল, অথচ অভিজাত শ্রেণি ও ধর্মীয় নেতারা নানা বিশেষ সুবিধা ভোগ করতেন। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসের জনগণ বাস্তিল দুর্গে আক্রমণ চালায়। বাস্তিল ছিল একটি দুর্গ-কারাগার, যা রাজকীয় স্বেচ্ছাচারিতা ও দমননীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। জনগণ সেখানে মূলত অস্ত্র ও বারুদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। যদিও কারাগারে তখন মাত্র সাতজন বন্দি ছিলেন, তবুও দুর্গটির পতন রাজতান্ত্রিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে জনগণের বিজয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই ঘটনাই ফরাসি বিপ্লবের কার্যকর সূচনা।

বাস্তিল দুর্গ দখলের পর ফ্রান্সে যে বিপ্লবের সূচনা হয়, তা বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের দ্বার উন্মোচন করে। “লীবের্তে, এগালিতে, ফ্রাতের্নিতে”, অর্থাৎ “স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব”, বিপ্লবের মূলমন্ত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে এই আদর্শ শুধু ফ্রান্সেই নয়, বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করে। এই বিপ্লবের মাধ্যমে মানবাধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকাশেও এর প্রভাব ছিল গভীর ও সুদূরপ্রসারী।

বাস্তিল দুর্গ দখলের এক বছর পর, ১৭৯০ সালের ১৪ জুলাই ফেত দ্য লা ফেদেরাসিওঁ (Fête de la Fédération) উদযাপিত হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিরা প্যারিসে সমবেত হন এবং রাজা ষোড়শ লুইও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের সমর্থন প্রকাশ করা।

পরে জাতীয় দিবসের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণের সময় অনেক রাজনীতিবিদ মনে করেন, ১৭৯০ সালের এই উৎসবটি ফরাসি জাতির ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে অধিক গ্রহণযোগ্য। ফলে ১৪ জুলাই এমনভাবে নির্বাচন করা হয়, যাতে একই সঙ্গে ১৭৮৯ সালের বিপ্লব এবং ১৭৯০ সালের জাতীয় ঐক্যের স্মৃতি ধারণ করে।

তৃতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সুসংহত করার লক্ষ্যে জাতীয় প্রতীক ও ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ১৮৮০ সালে সংসদ সদস্য বেঞ্জামিন রাসপাইয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আইন পাস হয় এবং ১৪ জুলাইকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই বছর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়।

বর্তমান ফ্রান্সে ১৪ জুলাই শুধু একটি স্মরণীয় দিন নয়; এটি জাতীয় গৌরবের প্রতীক। রাজধানী প্যারিসের শঁজ-এলিজে সড়কে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি অতিথি এবং হাজারো দর্শক অংশ নেন। এই কুচকাওয়াজ ফরাসি সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি দেশের অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সন্ধ্যায় আইফেল টাওয়ারের আশপাশে বর্ণিল আতশবাজির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্য, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং জনপ্রিয় বাল দ্য পম্পিয়ে (Bal des Pompiers) বা দমকলকর্মীদের আয়োজিত নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার ও বন্ধুরা একত্রিত হয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। ফরাসি বিপ্লব শুধু ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি সমগ্র বিশ্বের রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। জনগণের অধিকার, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে এই বিপ্লবের প্রভাবে। তাই ১৪ জুলাইকে অনেকেই স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সংগ্রামের একটি আন্তর্জাতিক প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।

১৪ জুলাই ফ্রান্সের জাতীয় দিবস এমন একটি দিন, যা একদিকে অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণের বিজয়কে স্মরণ করিয়ে দেয়, অন্যদিকে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে। বাস্তিল দুর্গের পতন থেকে আধুনিক ফরাসি প্রজাতন্ত্রের বিকাশ—সবকিছুরই প্রতিফলন ঘটে এই দিনে। তাই ফরাসি জনগণের কাছে ১৪ জুলাই শুধু একটি সরকারি ছুটির দিন নয়; এটি তাদের ইতিহাস, পরিচয়, সংগ্রাম এবং গৌরবের এক উজ্জ্বল প্রতীক।

লেখক: ✍🏿 মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন ফ্রান্স থেকে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী। mahbubhossain786@yahoo.com
ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});