সিলেট: শত বছরের প্রচলিত রীতির ‘রহস্য উন্মোচন’ করে আজ রাতেই সিলেট ত্যাগ করছেন সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। তার স্থলাভিষিক্ত ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।
সিলেটের জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২১ জুন) রাতেই ডিসি সারওয়ার আলমের সিলেট ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে রোববার (২০ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন সারওয়ার আলম।
সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের স্বচ্ছতা ফেরাতে দানবাক্স এবং ঐতিহাসিক ডেগের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তিনি মাজার সিন্ডিকেটের কাছে ব্যাপক তোপের মুখে মুখে পড়েন।
এদিকে, বদলির আদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণার একদিন পর সোমবার প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রীতির বাইরে প্রথমবারের মতো প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনার উদ্যোগ নেন সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ডিসি সারওয়ার আলম।
প্রকাশ্যে গণনা শেষে শাহজালাল (রহ.) মাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা ৩টি ডেগ ও একটি দানবাক্স খুলে গণনায় নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং ৭ আনা সোনা ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়।
এদিকে ডিসি সারওয়ারের এ উদ্যোগকে ঘিরে মাজার এলাকায় উৎসুক জনতার ঢল নামে। টাকা গণনার সময় সাধারণ মানুষ মিছিল দিতে শুরু করেন। এ সময় তারা ডিসি সারওয়ার আলমের প্রশংসা করেন। তবে গণনার সময় মাজার কর্তৃপক্ষের কেউ উপস্থিত না থাকলেও তাদের পক্ষের লোকজন সেখানে ছিলেন।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, ‘সোমবার রাতেই ডিসি মহোদয় সিলেট ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। মাজারের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামীয় একটি হিসাবে রাখা হবে। সম্প্রতি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তীতের এই টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি মহোদয় চলে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।’