বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য। মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে দেশটি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এশিয়ার খ্যাতনামা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ি, সাহেব বাড়ির দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সারাহ কুক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে যুক্তরাজ্য। গত নয় বছরে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৪৬০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। মিয়ানমারে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় অংশীদারত্ব বিদ্যমান। যুক্তরাজ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামগ্রিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। টাঙ্গাইলে দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, কুমুদিনীতে দুর্গাপূজার আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত। এটি তাঁর তৃতীয়বারের মতো এখানে আসা। প্রতিবারই পূজার বর্ণিল আয়োজন, সংগীত, নাচ ও উৎসবের আনন্দ তাঁকে মুগ্ধ করে। এ উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্রিত করে, যেখানে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ উদ্যাপন করেন। এটি একটি বিশেষ আয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ ফুল দিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে স্বাগত জানায় এবং কুমুদিনী লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে বজরা নৌকায় লৌহজং নদী পার হয়ে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে যান। এ সময় কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.