
শিবপুরের লটকনের সুনাম দেশ পেরিয়ে বিদেশে, বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
নরসিংদীর শিবপুরে উৎপাদিত আকর্ষনীয় অর্থকরী ফল লটকন এখন দেশ বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। প্রতিবছরই লটকন বিক্রি করে কৃষকরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি ভাগ্যের পরিবর্তন করে থাকেন। তবে এবার ফলন কিছুটা কম। এখানকার উৎপাদিত বেশ বড় আকারের হলুদ বর্ণের মিষ্টিস্বাধযুক্ত লটকন ক্রেতাদের মূল আকর্ষন।
শিবপুর উপজেলার জয়নগর ও যোশর ইউনিয়নে বাগানে বাগানে এখন লটকনে সমারোহ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, শিবপুর উপজেলায় এবার ১৪৬৫ হেক্টর জমিতে লটকন আবাদ করা হয়েছে। লটকন বাগানের সংখ্যা ছোট বড় মিলে প্রায় ২ হাজার ৫০০। কৃষকের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। নরসিংদীর বিখ্যাত লটকন ২০২৫ সালে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি প্রদান করে।

সরেজমিনে শিবপুরের লটকন বাগান ও স্থানীয় বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ী এবং চাষিরা বাগান থেকে তাজা লটকন পেড়ে এনে বাজারে বিক্রি করছেন। সরবরাহ ভালো থাকার পাশাপাশি এবার বাজারে লটকনের বেশ ভালো দামও পাচ্ছেন। আকার ও গুণগত মানভেদে প্রতি কেজি লটকন বাজারে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।
অল্প খরচে এবং কম পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় শিবপুর অঞ্চলের চাষিদের কাছে লটকন এখন অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে। চারা রোপণের মাত্র ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ফলন আসতে শুরু করে এবং একটি বাগান থেকে টানা ২০-৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।
জয়নগর শিমারবাগের লটকন চাষী জুলহাস ভূইয়া জানান, তিনি এবার ১৯ লাখ টাকায় লটকন বাগান বিক্রি করেছেন।
লটকন ব্যবসায়ী হযরত আলী জানান, তিনি এবার ৪২ লাখ টাকার লটকন বাগান ক্রয় করেছেন। খরচ বাদে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লাভ হবে।
অপর ব্যবসায়ী ইকবাল হাসান বলেন, আমি এই মৌসুমে ৫০ লাখ টাকার লটকন ক্রয় করেছি। যা দুইমাস ব্যাপী বিক্রি করবো। লটকন বাগান পরিচর্যা, লটকন পাড়া, মাপা, বাজারজাতকরণের জন্য আমার এখানে ৮/১০ শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। আশা করি খরচ বাদে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোহসিনা জাহান তোরণ বলেন, শিবপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকা লটকন চাষে অন্যতম। উঁচু, লালচে অম্লীয় মাটি এবং ছায়াযুক্ত আবহাওয়ার কারণে লটকন চাষের জন্য উপযুক্ত। ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই লটকন চাষীদের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা কৃষি বিভাগ চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে পাশে রয়েছি।