সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজুর রহমানের মতো জাতীয় দলের উদীয়মান তারকা ক্রিকেটার তৈরির আঁতুড়ঘর সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খেলার মাঠটি এখন অযত্ন, অবহেলা ও দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হলেও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মাঠটির সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন কার্যত স্তব্ধ হতে বসেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ওই এলাকার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের খেলার একমাত্র আশ্রয়স্থল এই মাঠটি বর্তমানে অত্যন্ত অসমতল ও উঁচু-নিচু। কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলজট ও কাদা-মাটি। ফলে বছরের একটি বড় সময় মাঠটি খেলার পুরোপুরি অযোগ্য হয়ে পড়ে থাকে। মাঠের এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন খেলাধুলা ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়েছে গণমুখী ক্লাবসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের নিয়মিত অনুশীলন ও টুর্নামেন্ট। স্থানীয় বাসিন্দা, ক্রীড়াপ্রেমী ও শিক্ষার্থীরা জানান, গ্রীষ্ম কিংবা শীত-সব ঋতুতেই বিকেলে মাঠটি শত শত কিশোর ও তরুণের উপস্থিতিতে মুখরিত থাকে। ক্রিকেট, ফুটবল ও ভলিবলসহ নানাবিধ খেলার আয়োজন চলে বছরজুড়ে। অথচ সঠিক তদারকির অভাবে মাঠটি আজ প্রাণহীন। খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মাঠটির অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক নির্বাহী সদস্য ও সুন্দরবন ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, “সৌম্য ও মোস্তাফিজের মতো বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো ক্রিকেটারদের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হয়েছিল এই মাঠেই। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযত্নে আজ তা খেলার অনুপযোগী। উদীয়মান খেলোয়াড়দের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত মাঠটি সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।” মাঠের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম টুকু বলেন, “ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা দূর করতে একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া মাঠটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কারসহ একটি মিনি স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।” জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির এই উর্বর প্রাঙ্গণটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী রাখতে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের আশু ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাতক্ষীরার সচেতন মহল ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.