কহিনূর আক্তার সুচন্দা কখনো রুপালি পর্দার নায়িকা, কখনো প্রযোজক, আবার কখনো নির্মাতা—বহুমাত্রিক পরিচয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র অধ্যায় তৈরি করেছেন সুচন্দা। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনায়ও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীর জন্মদিনে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের গল্প, স্মৃতি ও অজানা অধ্যায় নিয়ে চ্যানেল আই আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘কালজয়ী সুচন্দা’। আজ শনিবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে অনুষ্ঠানটি। এর পরিকল্পনা ও উপস্থাপনায় রয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক আবদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে একান্ত আলাপচারিতায় সুচন্দা ফিরে দেখেছেন তার দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবন। অভিনয়ে কীভাবে পথচলা শুরু, ক্যারিয়ারের নানা বাঁক, প্রযোজনায় যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী সময়ে নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ—বিভিন্ন প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তার কথায়। একই সঙ্গে কিংবদন্তি নির্মাতা ও তার স্বামী জহির রায়হানের সঙ্গে সম্পর্কের নানা স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
১৯৪৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় জন্ম সুচন্দার। তার আসল নাম কোহিনূর আক্তার। ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করা এই অভিনেত্রীর বড় পর্দায় অভিষেক হয় ১৯৬৬ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘কাগজের নৌকা’ সিনেমার মাধ্যমে। পরের বছর রাজ্জাকের বিপরীতে ‘বেহুলা’য় অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন তিনি।
এরপর ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘নয়নতারা’, ‘সুয়োরানী দুয়োরানী’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘কাঁচের স্বর্গ’ ও ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন সুচন্দা। তার অভিনয়শৈলী ও পর্দা উপস্থিতি তাকে ষাট ও সত্তরের দশকের উল্লেখযোগ্য অভিনেত্রীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তবে অভিনয়ের গণ্ডিতে নিজেকে আটকে রাখেননি তিনি। চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও যুক্ত হন সুচন্দা। জহির রায়হানের জীবদ্দশায় ‘টাকা আনা পাই’ ও ‘প্রতিশোধ’সহ কয়েকটি সিনেমা প্রযোজনা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নির্মাণেও পা রাখেন এই অভিনেত্রী।
‘সবুজ কোট কালো চশমা’ তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য সিনেমা। এরপর স্বামী জহির রায়হানের উপন্যাস অবলম্বনে ২০০৫ সালে নির্মাণ করেন ‘হাজার বছর ধরে’। সিনেমাটি পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে সম্মানিত হন সুচন্দা। একই সঙ্গে প্রযোজক হিসেবেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
অভিনয়, প্রযোজনা ও নির্মাণ—চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান সুচন্দা।
এবার জন্মদিনের আয়োজনে তার বর্ণাঢ্য সেই পথচলার গল্পই তুলে ধরবে ‘কালজয়ী সুচন্দা’। চলচ্চিত্রে অভিষেক থেকে শুরু করে সাফল্য, নির্মাণের অভিজ্ঞতা, জহির রায়হানকে ঘিরে স্মৃতি এবং ক্যারিয়ারের নানা জানা-অজানা অধ্যায়—সব মিলিয়ে দর্শকের সামনে উঠে আসবে কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীর জীবনের অন্যরকম এক গল্প।