
মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান জন ফেলান পদত্যাগ করেছেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তার পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ফেলানের পদত্যাগ ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হবে। নৌবাহিনীর উপ-সচিব হাং কাও অস্থায়ীভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রশাসনের আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা দায়িত্ব ছেড়েছেন। ফেলানের পদত্যাগ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেই এই পদত্যাগের খবর সামনে এসেছে।
নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের কোনো কারণ জানায়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ নির্মাণসংক্রান্ত ইস্যুতে প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধের জেরে এই পদত্যাগ হতে পারে। পারনেল বলেন, ফেলানের সেবার জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আমরা কৃতজ্ঞ। তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য আমরা শুভকামনা জানাই।
এর কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া আরও দুজন সেনা কর্মকর্তাকে সম্প্রতি তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, জেনারেল ডেভিড হডনে এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন।
বিবিসি জানিয়েছে, পেন্টাগনে যোগ দেওয়ার পর থেকে হেগসেথ এক ডজনের বেশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে অপসারণ করেছেন। তাদের মধ্যে নৌবাহিনীর অপারেশন প্রধান এবং বিমানবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফও
নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনিক। এর মধ্যে নীতি প্রণয়ন, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ, বাজেট তদারকি এবং নৌযান ও স্থাপনা নির্মাণ ও মেরামতের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফেলানের স্থলাভিষিক্ত হাং কাও ২০২৫ সালের অক্টোবরে উপ-সচিব হন এবং তিনি ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নৌবাহিনীর একজন সাবেক সদস্য। তিনি ২০২৪ সালে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ নির্বাচনে ট্রাম্প তাকে সমর্থন দিয়েছিলেন; তবে তিনি বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইনের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনী বিতর্কে তিনি সামরিক বাহিনীতে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির সমালোচনা করেন।
নৌবাহিনীর নেতৃত্বে এই পরিবর্তন এমন সময় ঘটছে, যখন ট্রাম্পইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট এই অবরোধ নিয়ে ‘সন্তুষ্টি’ প্রকাশ করেছেন।
