
সাপ পুষেই বছরে প্রায় দেড় লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি চুরাশি লাখ টাকা) আয় করেন এক তরুণী। তার বাড়িতে রয়েছে ৬০ হাজারের বেশি শীতল রক্তের বিষধর সব সাপ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার দুবছর পর গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন তিনি। পরে হাল ধরেন তার এই পৈতৃক ব্যবসার।
সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাপ পুষে চীনের গুয়াংজি প্রদেশের গুইলিন শহরের বাসিন্দা কিন এখন স্বাবলম্বী।
৫০ হাজারেরও বেশি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির পিট ভাইপার ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ এবং প্রায় ১০ হাজার গোখরোর বাস রয়েছে তার খামারে। এই সমস্ত সাপের বিষ, চামড়া ও মাংস বিক্রি করে বিপুল আয় করেন তিনি।
গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তরুণী জানান, প্রথম দিকে এই সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন তার বাবা। তার মতে, এই ব্যবসায় পা রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। পরে সাপের খামারটি বড় হতে থাকলে তরুণীর একার পক্ষে তা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় বাবাও সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।
কিন ব্যাখ্যা করেন, শুকনো সাপ, সাপের পিত্তথলি এবং সাপের তেল—সবকিছুই চীনে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। সাপের বিষদাঁত থেকে নিষ্কাশিত বিষ চিকিৎসা ও গবেষণার কাজে লাগে। পিট ভাইপার প্রজাতির সাপ থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর বিষ সংগ্রহ করা হয়। বিষের গুণমানভেদে এর দাম প্রতি গ্রাম ৪০ থেকে ২০০ ইউয়ান (৬ থেকে ৩০ ডলার) পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটি সাপের মাংস ২০০ থেকে ৩০০ ইউয়ানে বিক্রি হয়, তবে বড় সাপের ক্ষেত্রে দাম ১ হাজার ইউয়ানের (১৫০ ডলার) বেশিও হতে পারে।
সমস্ত খরচ বাদ দেওয়ার পর, ব্যবসা থেকে বছরে দশ লাখ ইউয়ানেরও বেশি আয় করেন কিন। ‘দ্য গার্ল হু কালেক্টস স্নেক ভেনম’ ছদ্মনামে অনলাইনে সাপের বিষয়ে নানা অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানও শেয়ার করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কয়েক হাজার অনুসারীও রয়েছে।
কিন জানান, ফাইভ স্টেপ স্নেক সাপের যত্ন নেওয়া খুবই কঠিন। কারণ এদের জোর করে খাওয়াতে হয়। সেই কাজ করতে গিয়ে ছোবল খাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।
সাপ সংক্রান্ত ভিডিওগুলো পোস্ট করার পর প্রায়শই তার কাছে প্রশ্ন আসে যে, যারা সাপ পোষেন তারা কি সাপের কামড় খাওয়ার ভয় পান না? এ বিষয়ে কিন জানিয়েছেন, সাপ পোষেন এমন কেউ যদি দাবি করেন যে তিনি সাপের কামড়কে ভয় পান না, তাহলে এর একটাই সম্ভাবনা আছে—তা হলো তিনি কখনও সাপের কামড় খাননি। বিশেষ করে পিট ভাইপার জাতীয় সাপের ক্ষেত্রে কামড়ের পর প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র ব্যথা। একবার এই অভিজ্ঞতা হলে যে কেউই সেই ব্যথা এক বছর, এমনকি সারা জীবনের জন্যও মনে রাখবেন।
