গাজীপুরের কালীগঞ্জে পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৫ বছর ধরে পরিচয় গোপন করে পালিয়ে থাকা এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত খুনি এবং এলাকার এক চিহ্নিত দুর্ধর্ষ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এবং বিকেলে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— উপজেলার কাপাইস গ্রামের মৃত আমান উল্লাহর ছেলে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. রহমত আলী ওরফে রহমত মিস্ত্রী (৫৩) এবং বালুয়াভিটা গ্রামের রাজু মোড়লের ছেলে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী মো. রনি মোড়ল (২৩)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে রূপগঞ্জ থানাধীন মাওনা গ্রামের একটি রাইস মিলের মালিক নূরুল হককে হত্যা করে ওই মিলের শ্রমিক রহমত আলী। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রহমত আলী দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন করে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। নিজেকে আড়াল করার লক্ষ্যে তিনি এনআইডিতে (জাতীয় পরিচয়পত্র) স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে উপজেলার বাহাদুরসাদী গ্রামে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানাধীন চর কশিয়া গ্রামে জনৈক হাবিবুল্লাহর মেয়ে আলপনাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে সেখানে বসবাস শুরু করেন। তাদের সংসারে তাবাসসুম নামে ২ মাসের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গত ২২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় চর কশিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি আভিজাত দল।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে উপজেলার চান্দেরবাগ বাজার এলাকা থেকে রনি মোড়ল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চুরি ও ছিনতাইসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “অপরাধী যত চতুরই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত তাকে আইনের আওতায় আসতেই হয়। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রহমত আলী দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিজের পরিচয় ও ঠিকানা গোপন করে পালিয়ে ছিলেন। কিন্তু আমাদের চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। একই সাথে এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি রনি মোড়লকেও আমরা গ্রেফতার করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “কালীগঞ্জ উপজেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমাদের এই ধরণের ঝটিকা অভিযান ও বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গ্রেফতারকৃত উভয় আসামিকে আজ মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
পুলিশের এই সফল অভিযানে এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে। পলাতক ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের এমন তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
