পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একক ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
সম্প্রতি সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে তিনি জানান, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষার সময়ও এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ফল প্রকাশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমানো। ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার কারণে লাখো শিক্ষার্থীর মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে এইচএসসি পাসের পর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে কয়েক মাস ধরে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে হয়, যা সময় ও ব্যয়ের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে। কয়েক বছর আগে এ ভোগান্তি কমাতে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করা হলেও তা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)–এর তত্ত্বাবধানে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় একসময় ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিলেও পরবর্তীতে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বেরিয়ে গিয়ে সংখ্যা কমে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-সহ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকে। ফলে তিন-চার মাস ধরে একাধিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ইউজিসিকে দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসএসসি ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হলে জুন মাসের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে জুলাই মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব, যা বর্তমান সময়সূচির তুলনায় প্রায় চার মাস এগিয়ে আসবে।
একক ভর্তি পরীক্ষা চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও খরচ অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। তারা জানিয়েছেন, এটি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং নীতিগত ঐকমত্য জরুরি।
কুশল/সাএ
