সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে জেলার নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির তীব্র চাপে ভেঙে গেছে জেলার মধ্যনগর উপজেলার জিনারিয়া হাওরের বাঁধ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা আবিদনগর ইউনিয়নের মোকসেদপুরে বাঁধটি ভেঙ্গে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে এবং মুহুর্তের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায় জিনারিয়া হাওরের বোরো ধানক্ষেত। এই হাওরে অর্ধশতাধিক কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন,পরিশ্রম ও আশা মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিঃশ্ব করে দিশেছে। ওই সব কৃষকগন বছরের ছয় মাসের জন্য জিরাতি করতে আসে প্রতি বছরে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের বোলাই নদীর তীরে মুখশেদপুর এলাকায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসে ছয় মাসের জন্য স্থায়ী বাড়ি ঘর ছেড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে অস্থায়ী বসতি গড়ে চাষাবাদের জন্য। পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে ভাল ফলনের আশায় ছিলেন। সারা বছরের জীবিকার তাগিদে তারা হাওরের বুকে সোনালী ফসল ফলিয়ে পাকা ধান কেটে মাড়াই আর শুকিয়ে আবারও নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়।
এ সময় নানান প্রতিকূলতা ও সন্তানদের পড়াশোনাও বন্ধ রাখে ফসলের আসায়। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে সকালে বোলাই নদীর পাশে বাঁধটি ভেঙে জিনারিয়া হাওরের বোরো জমি তলিয়ে যায়। এই হাওরে জিরাতি করতে আসা কৃষকগন এ বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মুখশেদপুরের কৃষক জামিল মিয়া জানান, পানিতে সব পাকা ধান তলিয়ে গেছে, আমাদের সব শেষ। এক বারে পথ বসে গেলাম। আগামী দিন গুলো কি ভাবে চলনো কোনো পথ নাই আমাদের। এই ধানের উপর আমাদের সব ধার দেনা করে জমি চাষাবাদ করেছিলাম এখন মহা বিপদে পড়েছি।
কৃষক লতিফ মিয়া জানান,এই ফসলের আশায় অপেক্ষায় ছিলাম,আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে কাটতে পারেনি আজকে পানিতে তলিয়ে গেছে। কি কবরো কিভাবে চলবো মাথায় আসছে না। ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিলো এখন শুন্য হাতে বাড়ি ফিতরে হবে।
উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান,জিনারিয়া হাওরের ২৬ হেক্টর জমি চাষাবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ৮ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলো। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর প্রায় ৩ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে।
