কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। প্রতিবছর বর্ষায় আগ্রাসী রুপ ধারণ করে এই নদ। নদের ভাঙনে সর্বস্বান্ত হয় অসংখ্য পরিবার। তাই নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া-নলেয়া গ্রামে দুধকুমার নদের ভাঙনরোধে ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে জানানো হয় “দুধকুমর নদের বাঁধ নির্মাণ আংশিকভাবে বন্ধ রেখে উজান ও ভাটির অংশে কাজ সম্পন্ন করায় নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে স্থানীয় জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে”।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই । তিনি বলেন, দুধকুমর নদের এই অংশে ভাঙন রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ , সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রেখে অন্য অংশে কাজ সম্পন্ন করায় পানির চাপ এসে এই এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি।
অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত ) আব্দুল লতিফ জানান, নদের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এবিষয়ে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি সংসদে দাবী জানিয়েছি। নদের ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
