সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নির্মাণের মাত্র ৪ দিনের মাথায় রাস্তার সব ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্য আফসারের বিরুদ্ধে। উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের চরনবীপুর গ্রামে সদ্য নির্মিত একটি সড়কে এ ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গাড়াদহ ইউনিয়নের চরনবীপুর গ্রামের কয়েকটি পরিবারের যাতায়াতের পথ করে দিতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ১০ ফিট প্রস্থ ১০০ ফিট দৈর্ঘের ইটের রাস্তা তৈরি করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল সদ্য বিদায়ী ইউএনও মাশফিকা হোসেন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মুশফিকুর রহমান, থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামসহ গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে রাস্তাটি উদ্বোধন করেন।
এরপর ইউএনও মাশফিকা হোসেনের বদলির পর গত শনিবার (২ মে) বিকেলে রাস্তার সব ইট তুলে নিয়ে যায় গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আফসার আলীর নেতৃত্বে একদল মানুষ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য শিউলি জানান, সদ্য বিদায়ী ইউএনও মাশফিকা হোসেন কয়েকটি পরিবারের চলাচলের জন্য উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কয়েকদিন আগেই রাস্তাটা করে দেন। আজ হঠাৎই সাবেক মেম্বার আফসারের নেতৃত্বে গাড়াদহের কিছু লোক এসে ইট তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে সাবেক ইউপি সদস্য আফসার মুঠোফোনে জানান, তিনি কোন রাস্তার ইট তুলে নিচ্ছেন না। যেখানে রাস্তা করা হয়েছে সেটা একটি কলেজের জায়গা, তাই কলেজের জায়গা দখলমুক্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, “গাড়াদহ ইউনিয়নের চরনবীপুর গ্রামে সদ্য নির্মিত রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, স্থানীয় করতোয়া ডিগ্রি কলেজের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউসুফ আলী ও রফিক প্রামাণিকসহ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি প্রতিবেশী মিনা খাতুন বাঁশের বেড়া দিয়ে সেই পথ বন্ধ করে দেন। এতে কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। টানা ২০ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর সদ্য বিদায়ী শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাশফিকা হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করে চলাচলের জন্য ১০ ফিট প্রস্থ ১০০ ফিট দৈর্ঘের একটি ইট বিছানো রাস্তা করে দেন।