যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থবাজারে। এর ফলে শক্তিশালী হয়েছে মার্কিন ডলার এবং বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা। এসব কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। খবর রয়টার্সের।
সোমবার (৪ মে) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৩০ ডলারে স্থির হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে এর চাহিদা কমে যায়। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে ব্রেন্ট তেলের দামও ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ অবস্থায় ধারণা জোরালো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দ্রুত সুদের হার কমাবে না। উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক, কারণ এতে সরাসরি কোনো আয় পাওয়া যায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ সাধারণত অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী স্বল্পমেয়াদে বাজার থেকে সরে যেতে পারেন।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট সিলভারের দাম কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, প্লাটিনাম কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়াম কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিশ্ববাজারে এই দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম সমন্বয় করা হয়। তাই শিগগিরই দেশীয় বাজারেও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।