বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনায় তিন দিনের সফরে আজ ঢাকায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্রেন্ডান লিঞ্চ এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) শুরু হওয়া এই সফর চলবে ৭ মে পর্যন্ত। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, সফরের মূল উদ্দেশ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এটি কোনো মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির প্রথম ঢাকা সফর। ফলে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে। এছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদসহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।
এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন, বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি কমানো, মার্কিন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানির অঙ্গীকার এবং চুক্তির নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টাসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া মার্কিন পণ্যের বাজার প্রবেশ সহজ করতে বাংলাদেশ বিভিন্ন অশুল্ক বাধা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন মান অনুযায়ী তৈরি গাড়ি গ্রহণ, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) অনুমোদিত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ বৃদ্ধি এবং পুনর্নির্মিত পণ্যের ওপর কিছু আমদানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।