গড় আয়ু বৃদ্ধি পেলেও অসুস্থতা বাংলাদেশের প্রবীণদের অন্যতম সংকট। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, শারীরিক অক্ষমতা, পারিবারিক যত্ন ও পরিচর্যার অভাব এবং প্রবীণমুখী স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করছে।
অন্যদিকে নগরায়ণ, আধুনিক জীবনধারা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে পারিবারিক কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধে অবক্ষয় হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের প্রবীণেরা ঐতিহ্যগত সম্মান ও শ্রদ্ধার কেন্দ্র থেকে ক্রমে সরে পড়ছেন।
পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের বিবিধ ক্ষেত্রে এই ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর বঞ্চনা আগামীর বাংলাদেশে একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হতে পারে। এসব সমস্যা নিরসনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ ও যত্নশীল জীবন নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
কিশোরগঞ্জে ‘প্রবীণ নাগরিকদের মর্যাদাপূর্ণ ও যত্নশীল জীবন ব্যবস্থাপনায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের করণীয়’ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে আলোচকগণ এসব কথা বলেন। বুধবার (৬ মে) জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (যুগ্মসচিব) আয়েশা আক্তার। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন কিশোরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমত।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক কামরুজ্জামান খান এর সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যদের মধ্যে সিভিল সার্জন ডা. অভিজিৎ শর্মা, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ড. আতিকুল সারোয়ার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আল আমিন ভূঞা, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর লুৎফুন নাহার, সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. আসাদুজ্জামান কাউছার, পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শহীদুল্লাহ প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচকগণ প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতে হেল্পডেস্ক চালু করা, হেলথকার্ড চালু করা, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নে বিশেষ এপস তৈরি করা এবং সিনিয়র সিটিজেন ইউনিট স্থাপন করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
এছাড়া পরিবারে মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানো, প্রবীণদের আইনি ও নীতিগত সহায়তা, প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, প্রবীণদের অবদানের স্বীকৃতি, প্রবীণবান্ধব অবকাঠামো গঠনসহ একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিকদের মর্যাদাপূর্ণ ও যত্নশীল জীবন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে আহ্বান জানানো হয়।